Breaking News

এটিএম শামসুজ্জামানকে নিয়ে হানিফ সংকেতের স্ট্যাটাস ভাইরাল

বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের শক্তিমান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। জনপ্রিয় এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান শিল্পাঙ্গন। কয়েক দশক দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে আসা এই কিংবদন্তীর স্মৃতি বারবার মানসপটে চলে আসছে তার সহকর্মীদের।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির নিয়মিত শিল্পী ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। এই অনুষ্ঠানটির নন্দিত নির্মাতা হানিফ সংকেতের বহু নাটকেও অভিনয় করেছেন প্রবীণ এই শিল্পী। তাই এটিএমকে হারানোর ব্যথায় ব্যাথিত হানিফ সংকেত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এটিএম শামসুজ্জামানের সঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবি শেয়ার করে হানিফ সংকেত স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার আবেগঘন সেই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

হানিফ সংকেত লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে ঝরে গেলো আরও একটি নক্ষত্র। সবার প্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। আমাদের এটিএম ভাই। বর্ণাঢ্য যার অভিনয় জীবন। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অবশেষে আজ (শনিবার) সকালে সূত্রাপুরে তার নিজস্ব বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অত্যন্ত মেধাবী, প্রাণবন্ত, বিনয়ী, সহজ-সরল, সাদামাটা মানুষ ছিলেন এটিএম ভাই। ছিলেন একজন আদর্শ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। অসুস্থতার সময় নিয়মিত তার খোঁজ-খবর রাখতে চেষ্টা করতাম। হাসপাতালেও গিয়েছি। রুনী ভাবীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো। এটিএম ভাই ছিলেন ইত্যাদির বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোর প্রায় নিয়মিত শিল্পী। এছাড়া আমার অন্যান্য অনুষ্ঠান ও অনেকগুলো নাটকে তাকে নেয়ার সুযোগ হয়েছিল। তাই কাছ থেকে দেখেছি, গভীরভাবে মেশার সুযোগ পেয়েছি। ছিলো আন্তরিক সম্পর্ক। ’

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিকে নিয়ে এটিএম শামসুজ্জামানের মূল্যায়ন সম্পর্কে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘ইত্যাদির প্রতি তার একটা বিশেষ দুর্বলতাও ছিল। আর সেজন্যই চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায়ও তিনি বারবার ইত্যাদির কথা স্মরণ করেছেন। হাসপাতালে দেখতে গেলে সুস্থ হয়ে আবারও ইত্যাদির ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। আর তাই প্রথম যখন কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন তখনই ভাবী আমাকে জানিয়েছিলেন এটিএম ভাই ইত্যাদিতে অভিনয় করতে চান। যেহেতু আমরা আমাদের নিজস্ব শ্যুটিং স্পটে শ্যুটিং করি এবং এখানকার পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাই তার বিশ্বাস এখানে এসে অভিনয় করলে তার শারীরিক কোনো অসুবিধা হবে না। তাই এখান থেকেই তিনি আবার যাত্রা শুরু করতে চান।’

এটিএমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ আলী খানের সঙ্গে জুটি করে সেসময় ইত্যাদির জন্য ছোট্ট একটি নাট্যাংশ নির্মাণ করেছিলাম। যেটি পরবর্তীতে ইত্যাদিতে প্রচারিত হয়। আর ইত্যাদিতে করা সেই অভিনয়টুকুই ছিলো এটিএম ভাইয়ের জীবনের শেষ অভিনয়। অনেক শিল্পীরই বিকল্প তৈরি হয় কিংবা করা যায় কিন্তু এটিএম শামসুজ্জামানের কখনোই কোন বিকল্প ছিলো না, আর তৈরি হবে কিনা জানি না। তার প্রতিটি চরিত্রই ছিলো তার অভিনয় নৈপুণ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্যের। এই মহান শিল্পীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার মাগফিরাত কামনা করছি।’

About admin

Check Also

কলেজের বকেয়া মেটাতে মাটি কাটার কাজ করছেন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী

ভারতের ওড়িশার পুরী জে’লার দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী রোজি বেহরা। পড়াশোনার খরচ চা’লানোর সামর্থ্য নেই তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *