গাজরের কেজি ১৩০ টাকা দাম বাড়ছে টমেটোরও

বাজেটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে এরই মধ্যে চড়ছে সেসব পণ্যের দাম। এ ছাড়া তেল, চিনি, ডালসহ আমদানি করা পণ্যে শুল্ক ছাড়ের কোনো ঘোষণা না থাকায় এই চিত্র এসব পণ্যের বাজারেও।

আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় পণ্যকে উৎসাহিত করতে আমদানি করা গাজর, টমেটো, কমলাসহ বেশ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমদানি করা গাজর ও শালগমের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মাশরুমের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমদানি করা সাবানের সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া টমেটো, কাঁচা মরিচ, ক্যাপসিকাম ও কমলার ন্যূনতম শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

kalerkanthoএসব পণ্যের দাম এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। গত সোমবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, চায়না গাজর বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও ৭০ থেকে ৮০ টাকায় গাজর পাওয়া যেত। বাড়ছে টমেটোর দামও। ৪০ থেকে ৫০ টাকার টমেটো এখন ৬০ টাকার নিচে নামছেই না। যদিও দেশীয় এসব সবজি বাজারে পাওয়া যায় কিন্তু মানের দিক থেকে আমদানি করাগুলোর চাহিদাই বেশি। এ দুটিই শীতকালীন সবজি হওয়ায় এখন অনেকটাই আমদানির ওপর নির্ভর বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের সবজির আড়ত যমুনা ভাণ্ডারের মালিক মো. দিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে মৌসুম শেষ হলে ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশ থেকে গাজর, টমেটো, কাঁচা মরিচসহ বেশ কিছু সবজি আসে। সরকার আমদানির শুল্ক বাড়ানোর পর ১০ কেজির গাজরের প্যাকেটের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা করে। আমদানি করা সবজির দাম বাড়ায় বাড়ছে দেশি সবজির দামও।

আমদানি করা ক্যান মাশরুমের দাম এখনো না বাড়লেও দোকান ঘুরে জানা যায়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। নতুন পণ্য এলে তা বাড়তি দামে কিনতে হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

কমলার বাজার এখনো ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তাই কমলার ওপর ন্যূনতম শুল্কমূল্য নির্ধারণের খবরেই চড়ছে কমলার দাম। বিভিন্ন বাজারে সুপার শপসহ ফলের দোকানগুলোতে কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে; কয়েক দিন আগেও এই দামের চেয়ে কেজিতে ২০-৩০ টাকা করে কম ছিল।

ফ্রেশ ফ্রুট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজেট প্রস্তাবের পরই আমাদের অরেঞ্জ (কমলা এবং মাল্টা) আমদানির ওপর ট্যারিফ বেড়েছে ১০ সেন্ট। এখন মাল খালাস নিতে গেলেই ৪০ সেন্টের পরিবর্তে প্রতি কেজিতে ৫০ সেন্ট শুল্ক দিতে হয়। এতে আমাদের খরচ বেড়েছে প্রতি কার্টনে (১৫ কেজি) ১৮০ টাকার ওপরে। অথচ দেশের ফলের বাজার এখনো ৬৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। মানুষের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে আমদানি করা ফল দিয়ে।’ তবে আমদানি খরচ বাড়লেও তাঁরা দাম বাড়াননি বলে দাবি এই ব্যবসায়ীর। তিনি বলেন, ‘আমের মৌসুম হওয়ায় কমলা ও মাল্টার চাহিদা কম। ফলে আমদানি খরচ বাড়লেও বাড়তি দামে ক্রেতা কিনছে না, তাই লোকসানেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

তেল চিনি ডালের দামের লাগাম টানতে আমদানির ওপর কোনো শুল্ক বা ভ্যাট ছাড়ের আলোচনা নেই বাজেটে। অথচ এসব নিত্যপণ্যের দাম কমাতে দীর্ঘদিন ধরে তিন দফা ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রত্যাহারের আবেদন ছিল খোদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে বাজেটে কোনো আলোচনা না থাকায় এসব পণ্যের দামও চড়ছে গত সপ্তাহ থেকেই। ভোজ্য তেলের আমদানিকারকরা বলছেন, তেল-চিনিতে একবার আমদানিতে, তারপর রিফাইন করে বিক্রিতে এবং প্যাকিংয়ের পর খুচরা বিক্রিতে—এই তিন স্তরে ভ্যাট দিতে হয়। এ ছাড়া শুল্কতো রয়েছেই। এতে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে করের হারও বাড়ছে। কারণ এসব পণ্যের ভ্যাট হয় টনপ্রতি দামের ওপর।

জানতে চাইলে ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, তেল-চিনির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় দিয়ে দাম নাগালের মধ্যে রাখা দরকার ছিল। ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমে আসায় এসব পণ্যের দামের চাপ ব্যাপক হারে পড়ছে তাদের ওপর। ফলে ভোক্তার জন্য একটি হতাশার বাজেট হয়েছে।

Check Also

রমজানের আগেই কমেছে নিত্যপণ্যের দাম!

এবার রমজান সামনে রেখে কমতে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট কমায় পাইকারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!