ইভ্যালির চেয়ারম্যান-সিইওর বাসায় র‌্যাবের অভিযান

বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসায় এই অভিযান শুরু হয়।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান থানায় আরিফ বাকের নামে এক ভুক্তভোগী উভয়ের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আরিফ বাকের গত ২৯ মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। এগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা দেয়নি। কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে সমাধান পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীর দাবি, অফিসে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললে খারাপ ব্যবহার করেছে। সিইও রাসেলের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। তার সঙ্গে ইভ্যালি চরম দুর্ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।

এর আগে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করতে রাজধানীর গুলশান থানায় যান বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। রাতেই তারা এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দেন।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ রাসেল এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। লোভনীয় অফার দিয়ে তাদের ক্রেতা টানার কৌশল বাজারে সাড়া ফেলে দিয়েছে। তবে এতে অনেক ক্রেতাই অর্থ দিয়ে পণ্য পাননি।

তিন সশ’স্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে রাস্তা দাপিয়ে বেড়াতেন তিনি
রাজধানীর উত্তরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলিসহ এক ব্যক্তিকে আটক করার কথা জানিয়েছে র‍্যাব।

গতকাল বুধবার রাতে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর থেকে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মেজবাহ উদ্দিন সরকার ওরফে রুবেল (৪৪)।

মেজবাহর কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৫০টি গুলি, পিস্তলের লাইসেন্স ও ২টি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানায় র‍্যাব।

র‍্যাব বলছে, মেজবাহ একাধিক সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার র‍্যাব সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান প্রথম আলোকে বলেন, মেজবাহ নিজেকে ফেসবুকে আরএসবি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে রাস্তায় মেজবাহর ঘুরে বেড়ানোর কিছু ছবি সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং টিমের নজরে আসে।

ছবিতে দেখা যায়, মেজবাহ ছাতা নিয়ে ঘুরছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ কটি পরা সশস্ত্র তিন যুবক।

র‍্যাব সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেজবাহ বলেন, তিনি তাঁর দেহরক্ষী ফারুকসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা, টঙ্গীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিলেন। জনমনে ভয়ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টির জন্য তিনি সশস্ত্র দেহরক্ষীদের নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। আর সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত আইডি থেকে আপলোড করেন।

র‍্যাবের ভাষ্যমতে, মেজবাহ অবৈধভাবে তিনজন সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি তাঁর বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করে আসছিলেন।

মেজবাহর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় র‍্যাব।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.