ইভ্যালিকে ৯৮ লাখ টাকার পণ্য দিয়ে বিথী এখন দিশেহারা

নজর২৪ ডেস্ক- শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর), বিকেল সাড়ে ৩টা। শাহবাগে চলছে ইভ্যালির সিইও ও পরিচালকের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেওয়া, ফেসবুক লাইভ আর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত। তাদের থেকে একটু দূরে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক নারী। চোখেমুখে তাঁর রাজ্যের হতাশা।

কথা বলে জানা গেল তাঁর নাম মাছুমা আক্তার বিথী। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে দুই বছর ধরে পণ্য সরবরাহ করছিলেন তিনি। এ বছর মে পর্যন্ত সব টাকাই পেয়েছেন ঠিকঠাকভাবে। কিন্তু প্রায় চার মাস ধরে পণ্য দিলেও মিলছিল না টাকা। তাঁর পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮ লাখ টাকা।

বিথী জানান, নিউ মার্কেটের বিশ্বাস বিল্ডার্স এবং নিউ পল্টনে তাঁর দুটো শোরুম আছে। মেয়েদের পোশাক এবং রান্না সামগ্রীর ব্যবসা তাঁর। মহামারিতে অন্য সবার মতো দেড় বছর ধরে ব্যবসাতেও চলছিল দুঃসময়। এই দেড় বছরের মধ্যে কয়েক মাস মার্কেট বন্ধ থাকায় একপ্রকার বাধ্য হয়েই তিনি ইভ্যালিতে পণ্য সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন দেরিতে হলেও টাকাটা অন্তত পাবেন।

কিন্তু ইভ্যালির মালিক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল গ্রেপ্তার হওয়ায় সব হারানোর শঙ্কায় পড়ে গেছেন। তাঁর আশা, রাসেল মুক্তি পেলে টাকা ফেরত পাবেন। অন্যথায় কেউ তাঁর টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে না।

মাছুমা আক্তার বিথী বলেন, আমাদের কষ্ট আপনারা কীভাবে বুঝবেন? আপনারা তো ব্যবসা করেন না। ইভ্যালি থাকলে এমনিতেই আমরা টাকা পাব। এখন তো এইটা বন্ধ করার পাঁয়তারা চলতেছে।

বিথীর মতোই শাহবাগে জড়ো হয়েছিলেন ইভ্যালির শতাধিক গ্রাহক, পণ্য সরবরাহকারী এবং কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, মিথ্যা মামলায় রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দিলে ইভ্যালি বাঁচবে। তাঁরাও টাকা ফেরত পাবেন। নয়তো সব হারিয়ে পথে বসতে হবে তাঁদের।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ইভ্যালি টাকা পাচার করেনি। তাঁদের টাকা দেশেই আছে। ইভ্যালির গ্রাহকদের কাছেই আছে। বড় বড় শিল্পপতিরা যদি হাজার কোটি টাকা ঋণ করেও মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারেন, তাহলে রাসেল কেন জেলে থাকবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের বিনিয়োগের টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। নইলে আমরা সবাই পথে বসে যাব। কেউ ঋণ করে, কেউ ধার করে, কেউবা নিজের সব পুঁজি ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করেছি। এসব টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা চাই সরকারের কাছে।’

রাসেলকে আটকের পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করছেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা। তাদের দাবি, টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য একটা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তারা এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হয়েছেন।

প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা স্লোগানে শাহবাগ মোড় মুখর রাখেন এ আন্দোলনকারীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠি-চা-র্জ করে তাদের শাহবাগ মোড় থেকে সরিয়ে দেন। বিকাল পাঁচটার দিকে শাহবাগ মোড় আন্দোলকারী শূন্য হয়ে যায়।

এর আগে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা হলে বৃহস্পতিবার তাদের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা। এক ঘণ্টার অভিযানের পর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.