Breaking News

তরুণীর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা প্রেমিক

প্রেমিকার শ্বশুরবাড়িতে দেখা করতে গিয়ে বেরসিক জনতার হাতে ধরা পড়ে শ্রীঘরে গেল দুই সন্তানের জনক সাবেক প্রেমিক। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নে।

জানা গেছে, উপজেলার রমনা ইউনিয়নের তেলিপাড়া খেউনিপাড়া এলাকার এক মেয়ের সঙ্গে খরখরিয়া এলাকার এক যুবকের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে দুটি সন্তানও রয়েছে। ওই যুবক জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন।

বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে আসে তার সাবেক প্রেমিক খেউনিপাড়া এলাকার মনছুর আলীর ছেলে মন্টু মিয়া (২৫)। এ সময় স্থানীয় জনতা তাদের দুজনকে ধরে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। শুক্রবার সকাল থেকে ওই বাড়িতে পরকীয়ায় ধরা পড়া প্রেমিক যুগলকে দেখতে উৎসুক জনতার ঢল নামে।

বেলা ১১টার দিয়ে স্থানীয় থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ দুজনকে থানায় নিয়ে আসে। পরে মন্টু মিয়াকে জেলহাজতে এবং মেয়েকে বাবার বাড়িতে প্রেরণ করে চিলমারী থানা পুলিশ।চিলমারী মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান,

স্থানীয় জনতা ছেলে ও মেয়েকে ধরে রাখায় আমরা তাদের থানায় নিয়ে এসেছি। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রাতে বাসায় আসার বিষয়ে সঠিক জবাব দিতে না পারায় মন্টু মিয়াকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভাবির সঙ্গে বন্ধুর পরকীয়া! পরিবারের ‘মান বাঁচাতে’ বন্ধুকেখু\’ন করেন দেবর

গত বছরের ১০ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের পাবুরিয়ার গ্রামের মো: জমির আলীর ছেলে রাসেল (১৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পাঁচদিন পর ১৫জুলাই সকালে তার বাড়ীর এক কিলোমিটার দক্ষিণে গজারি বনের ভেতর থেকে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ও পুরো গায়ে পোঁকায় খাওয়া পঁচা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। পরে নিহতের বাবা শ্রীপুর থানায় মামলা দায়েরের ১৪মাস পর হত্যার রহস্য উদঘাটর করলো গাজীপুর পিবিআই। রাসেল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো, শ্রীপুর উপজেলার পাবুরিয়াচালা গ্রামের মোঃ আইয়ুব আলীর ছেলে মোঃ রানা (২২), মৃত আব্দুল হকের ছেলে মোঃ হেলাল (৪৫), মৃত মুক্তার হোসেনের ছেলে মোঃ কাউছার (২৩)।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান- নিহত রাসেলের বাবা মোঃ জমির উদ্দিন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন রাসেলের বাবা জমির উদ্দিন।

তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান- মামলা তদন্তভার নেয়ার পর নানা দিক বিবেচনায় তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তের এক পর্যায়ে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রানা, কাউছার ও হেলালকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, আসামী কাউছার এর প্রবাসী মেঝ ভাই মোঃ ফরিদের স্ত্রী নাদিরার সাথে নিহত রাসেলে পরকিয়া প্রেম ছিল। রাসেল এবং গ্রেফতারকৃত আসামী রানা একই সাথে চলাফেরা করত।

এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত আসামী রানার সাথে রাসেলের পরকিয়া প্রেমিকা নাদিরার গোপন সম্পর্ক হয়। এসম্পর্কের খবর রাসেল জানতে পারায় রাসেল-রানার বন্ধুত্বের সম্পর্কের অবণতি হয়। ঘটনার দিন (১০জুলাই ২০২০) দুপুরে নিহত রাসেল ও গ্রেফতারকৃতদের রাসেলের বাড়ির থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে শহুরে টেক নামীয় গজারী বনের ভেতর মোবাইল ফোনে ডেকে আনে নাদিরা। রাসেল ঘটনাস্থলে গেলে গ্রেফতারকৃত আসামী রানা, কাউছার এবং হেলালদের সহযোগিতায় রাসেলকে দুপুর আড়াইটার সময় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে গজারী গাছের সাথে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।

এ বিষয়ে গাজীপুর পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক বছর দুই মাস আগের। গাজীপুর পিবিআই মামলাটি নিবিরভাবে তদন্ত করে তিনজন আসামীকে গত মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার করে। উক্ত আসামীদের মধ্যে ভিকটিম রাসেলের সাথে পাবুরিয়াচালার ফরিদের স্ত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়। ঘটনার সময় ফরিদ দেশের বাহিরে কর্মরত ছিল। পরবর্তীতে ভিকটিম রাসেলের ঘনিষ্ট বন্ধু রানার সাথেও নাদিরার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।

আসামী রানা এই সুযোগে নাদিরার দেবর কাওছারকে বলে তোমার ভাইয়ের বউয়ের সাথে রাসেলের পরকিয়া প্রেম নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়টি কাওছার জানতে পেরে তাদের পরিবারের মান সম্মানের কথা বিবেচনা করে আসামী রানা ও হেলালকে সাথে রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে আসামী রানা ফরিদের স্ত্রী নাদিরাকে ফোন দিয়ে রাসেলকে ঘটনাস্থল পাবুরিয়াচালার শহুরের টেক গজারী বনের ভিতরে যেতে বলে। রাসেল নাদিরার কথা বিশ্বাস করে ঘটনাস্থলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই আসামী রানা ও হেলাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে রাসেলকে নাদিয়ার সাথে ফোনে কথা বলা অবস্থায় পায়।

ঘটনাস্থলে আসামী রানা, হেলাল এবং কাওছারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় এবং ভিকটিম রাসেলের গলায় রশি লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য রশির একটি মাথা গাছে ঝুলিয়ে রাখে এবং রশির অপর মাথা লাশটির গলায় পেঁচিয়ে গাছে ঝুলাতে না পেরে মাটিতে বসিয়ে রেখে চলে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রানাকে গত বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করা হলে ঘটনার সাথে জড়িত গ্রেফতারকৃত অপর আসামীদের নাম উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.