বাসরঘরের বদলে বর গেলো জেলে

বর দুই সন্তানের বাবা। স্ত্রী ছেড়ে চলে যাওয়ায় আবার বসতে চেয়েছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে। প্রস্তুতিও ছিল প্রায় শেষের দিকে। পাত্রী ১৩ বছর বয়সী আপন চাচাতো বোন। তবে শেষ পর্যন্ত আর বিয়ে হয়নি। বাল্যবিয়ের দায়ে মোশারফ হোসেন নামের ওই ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার আয়নাতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর মোশারফকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার ধরাবুন্নি গ্রামের দুই সন্তানের বাবা মোশারফ হোসেনকে ছেড়ে তার স্ত্রী চলে গেছেন। পরে তিনি ১৩ বছর বয়সী চাচাতো বোনকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

পারিবারিকভাবে নেওয়া ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিশোরী পাত্রীকে ঢাকায় তার মায়ের কাছ থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার আয়নাতলী গ্রামে নানার বাড়ি আনা হয়।

বাল্যবিয়ের এ খবর চলে যায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বরকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলেনা পারভীন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলেনা পারভীন বলেন, বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বর মোশারফ হোসেনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কনের অভিভাবকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জয়পুরহাটের কালাইয়ে চাকরির প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণের দায়ে হাবিল উদ্দিন (৩৩) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারা দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুস্তম আলী এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি কারাগারে অনুপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিল উদ্দিন উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

মামলার বরাত দিয়ে সরকারি কৌঁসুলি ফিরোজা চৌধুরী বলেন, ২০০৭ সালের ৬ মার্চ বিকালে কালাইয়ের দূরুঞ্জা এলাকার এক নারীকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাবিল উদ্দিন নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

পরে মারধর করে তাকে রাস্তায় ফেলে দেন। প্রতিবেশীরা ওই নারীকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ওই নারীর বোন কালাই থানায় মামলা করলে আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় দেন।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.