বিয়েবাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর ‘সং’ঘ’র্ষ, আ’হত ২২

বিয়েবাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া বাজারে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এরপর থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছে, বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষের আহতরা হলেন- রাজিব মিয়া, শাহ আলম, জিলানী, অজিত, শাহ আলম, নজরুল মিয়া, কবির হোসেন, ইকবাল মিয়া,

আশাবুদ্দিন, ইকবাল হোসেন, কেটা মায়া, আজগর আলী, সানাউল্লাহ, আরিফ, শুভ, জিলানি, জুয়েল, তানভীর, সাইদুল, মোমেন, বাদশা মিয়া, হৃদয়। এদের মধ্যে রাজিব মিয়া ও শাহ আলম গুলিবিদ্ধ।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বড় ঘারমোড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে ঠিক হয় উপজেলার বাগমারা গ্রামের এক ছেলের সঙ্গে। গত শুক্রবার বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল,

বৃহস্পতিবার ছিল গায়ে হলুদ। হলুদের অনুষ্ঠান চলার সময় রাতে পাশের হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন ছেলে গিয়ে মেয়েদের ছবি তোলে। এ সময় এসব ছবি ডিলিট করতে বলে একই গ্রামের স্থানীয়রা। এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এর জের ধরে শনিবার সকালে বড় ঘারমোরা গ্রামের আউয়াল মিয়া বাজারে আসলে তাকে মারধর করে হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন ছেলে। এই ঘটনায় আওয়াল মিয়ার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে হুজুর কান্দি গ্রামের ১৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ হুজুরকান্দি গ্রামের বকুল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

এই নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল‌। পরে রোববার সকাল আটটার দিকে দুই গ্রামের লোকজন ঘাড়মোড়া বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুইজন গুলিবিদ্ধসহ ২৪ জন আহত হয়। এদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লা বলেন, ‌‘বৃহস্পতিবার বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছেলেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে শনিবারও একজনকে মারার ঘটনায় থানায় মামলা হয়। এর জের ধরে আজকে আমরা বিষয়টি মিটমাট করার জন্য বসলে হুজুর কান্দি ও বড় ঘারমোড়া গ্রামের লোকজন নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’ হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কায়েছ আকন্দ বলেন, ‘সংঘর্ষের একজন এয়ারগান নিয়ে এসেছিল বলে শুনেছি। গুলির বিষয়ে আমি বলতে পারব না। পরে তদন্ত করে জানানো হবে।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.