Breaking News

জামাতার থাপ্পড়ে হাসপাতালে শ্বশুর-শাশুড়ি

কুমিল্লার লাকসামে যৌতুকের টাকা ও মেয়ের পারিবারিক কলহের মীমাংসা করতে গিয়ে জামাতার থাপ্পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্বশুর ও খালা শাশুড়িকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে স্ত্রীকে মারধর করেছে হেলাল উদ্দিন সাদ্দাম। তাকে বাড়িতেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শ্বশুর-খালা শাশুড়ি ও স্ত্রী সুমিকে রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় দেখে এলাকাবাসী জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে লাকসাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন এলাকাবাসী। বর্তমানে আহত শ্বশুর শহিদ উল্লাহ (৭০), খালা শাশুড়ি সাহেদা আক্তার (৩০) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শনিবার কান্দিরপাড়া ইউনিয়ন রামচন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী শামীমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে স্বামী হেলাল উদ্দিন সাদ্দামকে ১নং অভিযুক্ত করে ১২ জনের বিরুদ্ধে রোববার বিকেলে লাকসাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে থানায় অভিযোগের খবর শুনে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন সাদ্দাম বিভিন্নভাবে অভিযোগকারী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও নির্যাতনের শিকার নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে লাকসাম পৌরশহরে বাতাখালী গ্রামের শহিদ উল্লাহর মেয়ে শামীমা আক্তার সুমির সঙ্গে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের হারন রশিদের ছেলে হেলাল উদ্দিন সাদ্দামের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় জামাতাকে নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকে যৌতুকের জন্য নববধূকে চাপ দিতে থাকেন স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী হেলাল তার বোন, মা ও বাবার সহায়তায় সুমিকে প্রায়ই মারধর করে।

নির্যাতন সহ্য করতে না পারায় বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। বিষয়টি নিয়ে সালিশে বসে দুইপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা করে দেয়। কিছু দিন পর যৌতুকের টাকার জন্য সুমিকে নির্যাতন করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় স্বামী হেলাল উদ্দিন সাদ্দাম।

শনিবার সকালে সুমির পরিবারের স্বজনরা জানতে পান, জামাতা হেলাল উদ্দিন সাদ্দাম পুনরায় বিয়ে করতে যাচ্ছে। এ খবর শুনে সুমির পরিবারের লোকজন রামচন্দ্রপুর জামাতার বাড়িতে গেলে তাদের লাঞ্ছিত করে তাদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় সুমির বাবা শহিদ উল্লাহ বাধা দিলে জামাতা হেলাল শ্বশুরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে কিল-ঘুষি মারেন। এ নির্যাতন দেখে এলাকাবাসী জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই হেলাল তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

সোমবার লাকসাম থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সোহেল মিয়া বলেন, ৯৯৯ নাম্বারে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। গৃহবধূ শামীমা আক্তার সুমি থানায় অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.