ওসির ‘সতর্ক বার্তা’য় নির্ঘুম রাত

সোমবার গভীর রাত। হঠাৎ সতর্ক বার্তা থানার ওসির। ‘ডাকাতদল ঢুকে পড়েছে উপজেলার ভেতরে আপনারা সাবধান থাকুন, সতর্ক থাকুন, ভয়ের কারণ নেই পুলিশ আছে আপনার পাশে’।

এমন সতর্ক বার্তা পেয়ে উপজেলাবাসী জেগে উঠেন। এরপর শুরু হয় মসজিদে মসজিদে মাইকিংয়ের পাশাপাশি ঘিরে ফেলে পুরো উপজেলা। ফলে লোকজনদের মধ্যে দেখা দেয় চরম আতংক।

ডাকাতদের ধরতে লোকজন নেমে পড়েন রাস্তায়। হাতে বাঁশের লাটি আর টর্চলাইট নিয়ে রাতভর প্রহরা দেন লোকজন। ঘটনাটি সিলেটের গোলাপগঞ্জে সোমবার রাতে।

জানা যায়, বিয়ানীবাজারে পুলিশ নোহা গাড়ি ভর্তি ডাকাতদলকে তাড়া করে সোমবার রাতে। তাড়া খেয়ে ডাকাতদল উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চন্দরপুরে প্রবেশ করে। এ খবর বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশও ওই এলাকায় ডাকাত দলকে ধরতে অভিযানে নামে। এ খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয় আতংক।

উপজেলার বুধবারীবাজার, বাদেশাপাশা, ভাদেশ্বর, পৌরসভা, ঢাকাদক্ষিণ, আমুড়া, বাঘা, ফুলবাড়ী, লক্ষ্মীপাশা ও লক্ষণাবন্দসহ ১১টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। হাতে বাঁশের লাটি আর টর্চ লাইট নিয়ে রাতভর প্রহরা দেন এলাকার শত শত লোকজন।

পাশাপাশি সবকটি মসজিদে করানো হয় মাইকিং। ফলে সোমবার উপজেলাবাসী কাটিয়েছেন ’নির্ঘুম রাত’। হঠাৎ করে ডাকাতদের হানার খবরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে গোটা উপজেলায়।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী ডাকাত ফুকে পড়ার খবরটি নিশ্চিত করে বলেন, আতংকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। ডাকাতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.