সদ্য বাবা হওয়া যশ ছুটলেন অনাথ আশ্রমে!

নুসরাতের সন্তান ঈশানের বাবা যে যশ দাসগুপ্ত, তা সদ্যই স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। জমিয়ে পিতৃত্বের স্বাধ নিচ্ছেন যশও। তবে এরই মধ্যে হঠাৎ প্রেরণা নামের একটি অনাথ আশ্রমে দেখা গেল যশকে। কারণ?

কারণটা আসলে এখনই খুব স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনাথ আশ্রমে গিয়ে বেশ কিছু সময় ছিলেন যশ। এমসয় সেখানে থাকা শিশুদের সাথে আনন্দময় সময় কাটিয়েছেন এই অভিনেতা। জানা গেল, সেই অনাথ আশ্রমের অনেক শিশু আবার তার একনিষ্ট ভক্ত। যশের ছবি কেটে দেওয়ালে ঝুলিয়েও রেখেছে কেউ কেউ। তাদের সাথেই বেশ অনেকটা সময় পার করে এলেন যশ।

সবই ঠিক আছে, তবে কেন হঠাৎ অনাথ আশ্রমে যাওয়া? তা জানা যায়নি। কোনও ছবির প্রচারে, নাকি অন্য কোনও কারণে যশের পা পড়েছে সেখানে তা প্রকাশ করেননি অভিনেতা।

জয়া-বাঁধন-মিথিলা কাঁপাচ্ছেন ওপার বাংলা, কোলকাতা অভিনেত্রীদের মাঝে চরম ‘ক্ষোভ’ সৃষ্টি
ভারতীয় বাংলা সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করছেন বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন অভিনেত্রী। ‘আবর্ত’ সিনেমার মধ্য দিয়ে টলিউডে জয়া আহসানের যাত্রা শুরু হয়। তারপর ‘রাজকাহিনী’, ‘বিসর্জন’, ‘বিজয়া’, ‘কণ্ঠ’, ‘বিনিসুতোয়’সহ আরো বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া। আরো কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

সৃজিত মুখার্জি নির্মিত ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি’ ওয়েব সিরিজের মাধ‌্যমে ওপার বাংলায় পা রেখেছেন আজমেরী হক বাঁধন। মুক্তির পর এটি দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। এখন তাকে নিয়ে টলিউডের অনেক পরিচালকই কাজ করার কথা ভাবছেন। রাজর্ষি দে পরিচালিত ‘মায়া’ সিনেমার মাধ‌্যমে টলিউড যাত্রা শুরু করেন রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা। এরপর রিঙ্গো ব‌্যানার্জির ‘অ‌্যা রিভার ইন হেভন’ সিনেমায় নাম লেখান তিনি। কিছুদিন আগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন অরুণাভ খাসনবিশ পরিচালিত ‘নীতিশাস্ত্র’ সিনেমায়। কলকাতায় মিথিলার এটি তৃতীয় মিশন।

কলকাতার সিনেমায় এই তিন নায়িকা যে ধরনের সিনেমায় অভিনয় করছেন, এ ধরনের চরিত্রে আগে দেখা যেত পাওলি দাম, স্বস্তিকা মুখার্জি, রাইমা সেনকে। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার চাহিদা কমে যাওয়ায় শুভশ্রী, শ্রাবন্তী, মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহানও অন্য ধারার সিনেমার দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে অল্প পরিসরে প্রতিযোগিতা একটু বেশি। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ওপার বাংলার অভিনেত্রীদের মধ‌্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নায়িকা ভারতীয় একটি সংবাদমাধ‌্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—‘এমন অনেক চরিত্রই বাংলাদেশি অভিনেত্রীদের দেওয়া হয়, যেটা এখানকার যে কেউ করতে পারত।’ তবে এই প্রতিযোগিতার দৌড়ে নামতে নারাজ জয়া আহসান।

এর আগে এই অভিনেত্রী বলেছিলেন—‘সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকা তো ভালো! আমার মতে শিল্পের কোনো সীমারেখা থাকা উচিত নয়।’ এ বিষয়ে নিজ যোগ‌্যতাকে প্রধান‌্য দিয়েছেন মিথিলা। তার ভাষায়—‘কেউ কারো কাজ, জায়গা কেড়ে নিতে পারেন না।

সবাই নিজ যোগ্যতায় কাজ পাচ্ছেন। আমি বৈবাহিক সূত্রে কলকাতায় থাকছি, তাই এখন কলকাতায় কাজ করছি। আর এখানে আমি মাত্র কাজ শুরু করেছি, আমাকে বোধহয় কারো প্রতিযোগী হিসেবে দেখাটা ঠিক হবে না।’

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়সহ অনেকে বাংলাদেশের সিনেমায় কাজ করেছেন। বাংলাদেশের ‘কমান্ডো’ সিনেমায় কাজ করেছেন দেব। আবার এ পারে এসে একাধিক নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন বাংলাদেশের নুসরাত ফারিয়া।

অভিনেতারা অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়ে কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক। পাওলি, স্বস্তিকা যেমন বলিউডে নিয়মিত কাজ করছেন। বড় ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগও বেশি। এ পার বাংলার অভিনেতারা বাংলাদেশের সিনেমায় কাজ করলেও, তা সংখ্যায় কম।

এ বিষয়ে টলিউডের এক অভিনেত্রী বলেন—‘কলকাতায় বাংলাদেশের শিল্পীরা যতটা সুযোগ পান, সেই তুলনায় বাংলাদেশে আমাদের কাজের সুযোগ বেশ কম।’

বাংলাদেশি অভিনেত্রীরা টলিউডে কাজ করায় সেখানকার অনেকের মধ‌্যে ক্ষোভ তৈরির খবরটি শুনেছেন বাঁধন। কিন্তু এই চর্চা একজন অভিনেত্রীর উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাঁধন বলেন—‘অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের অভিনেত্রীরা এসে কাজ করায় টলিউডের কিছু অভিনেত্রীর মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আসলে আমাদের সমাজ এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে দেয়। বিশেষ করে নারীদের উপরেই চাপটা বেশি তৈরি হয়।

আমাদের কেন এই চাপ নিতে হবে? এগুলো এড়িয়ে ভালো দিকগুলো নিয়ে ভাবলে, সকলেরই কল‌্যাণ হবে। সকলে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবেন। কথাটা কলকাতা-বাংলাদেশ সব ইন্ডাস্ট্রির নিরিখেই বলছি।’

Check Also

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বাবা

ঘটনাটা মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার। এই পাঁচ ঘণ্টার ঘটনা লিখতেই যখন এত শব্দ লাগল, তাহলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.