Breaking News

নির্বাচনে হারায় রাস্তা বন্ধ করে দিলেন মেম্বার প্রার্থী, বিপাকে গ্রামবাসী

এবার সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় এক মেম্বার প্রার্থীর বিরুদ্ধে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা ঘিরে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বদ্দিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে বদ্দিপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৬০টি পরিবার ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। গত ২০ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বদ্দিপুর গ্রামের আরিজুল ইসলাম ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন।

তিনি নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় এলাকাবাসী তাকে ভোট দেয়নি বলে অভিযোগ তুলে বাড়ির পেছনের রাস্তাটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন। এতে গ্রামের অনেক বাসিন্দা বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মৌফর মোড়ল জানান, তারও ওই গ্রামে বাড়ি। তিনিও বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। এদিকে ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিন্টু জানান, গত সোমবার ইউপি নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় এলাকাবাসীকে গালাগালি করেন আরিজুল ইসলাম। এর পর দিন সকালে বাড়ির পেছনের রাস্তাটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন।

এ বিষয়ে মেম্বার প্রার্থী আরিজুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি তার রেকর্ডের জমি। এখন তিনি সেখানে একটি বাথরুম করবেন। এলাকাবাসী কীভাবে বাড়ি থেকে বের হবেন তা তিনি জানেন না।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাকে ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি কত ভোট পেয়েছি সেটাও আমাকে জানানো হয়নি। আমি কলারোয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছি।

আরো পড়ুন : ৩ কোটি টাকার রাস্তা ৬ মাসেই বেহাল!

পটুয়াখালীর দুমকিতে ৩ কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে ৬ মাস হলো। কিন্তু এরই মধ্যে পাকা সড়ক নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। শুধু নদী গর্ভে বিলিনই নয়, পাংগাশিয়া নেছারিয়া মাদরাসা থেকে পুকুরজনা পর্যন্ত রাস্তার মধ্যে বড় বড় গর্ত হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নের কচাবুনিয়া নদীর পশ্চিমপাড় দিয়ে তৈরি করা পাকা রাস্তা নেছারিয়া মাদরাসা থেকে পুকুরজানা বাজারের মাঝামাঝিতে

অনেকটাই নদীতে ভেঙে পড়েছে, বাকি অংশেও ফাটল ধরেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশলীর উদাসীনতায় প্রকল্পে নদীর তীরে পাইলিং বা সাপোর্টিং না থাকায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সড়কটি ৬ মাসেই নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার কারণে তেতুল বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাংগাশিয়া নেছারিয়া মাদরাসা, ধোপার হাট, হাজীর হাটসহ দুমকি উপজেলায় যাতায়তের জন্য তেতুল বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রাস্তার পাশের সরদার, হাওলাদার ও বয়াতী বাড়ির ১০টি বসতঘরের বসবাসরত বাসিন্দারা আতঙ্কিত অবস্থায় বসবাস করছেন। অটোড্রাইভার এছহাক ও মুছা হাওলাদার জানান, রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত হওয়ার কারণে নূন্যতম ৬০ জন অটোড্রাইভার যাতায়াত করতে পারছে না। প্রতি সপ্তাহে রয়েছে তাদের বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণের কিস্তি।

দ্রুত রাস্তাটির সংস্কারের উপযোগী না করলে রিকশা, অটো, মাহেন্দ্রা, ভটভটি ড্রাইভাররা বিভিন্ন সমস্যার সম্মূখীন হবে।

সাবেক পাংগাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সিকদার বলেন, ঠিকাদার তড়িগড়ি করে রাস্তাটির কার্পেটিং কাজ শেষ করলেও অনেক কাজে ত্রুটি রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ পরিমাপ ঠিক না রাখাসহ নানা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ায় কাজের গুণগতমান ঠিক নেই। তাছাড়া নদীর তীরে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাইল-সাপোর্ট না থাকায় জোয়ারের স্রোতে নিচের মাটি সরে যাওয়ায় সড়ক ভেঙে যাচ্ছে।

নদীর পাশের রাস্তা হওয়ায় কালভার্টের প্রয়োজন থাকলেও প্রকল্পে কোনো কালভার্ট রাখেনি। এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে থাকায় বিধিনিষেধের কারণে কালভার্ট করা সম্ভব হয়নি। পাংগাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে অবিহিত করা হয়েছে।

দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান জানান, সড়কের ভাঙন দ্রুত মেরামতের জন্য প্রকল্প পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান, সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.