Breaking News

গুপ্তধন-তান্ত্রিকের কথা বলে লাখ টাকা হাতিয়ে নিত তারা

ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার গালুয়া দুর্গাপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা গুপ্তধন-তান্ত্রিকের কথা বলে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।

গ্রেফতাররা হলো- বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জের খাউলিয়া এলাকার মো. দুলাল খানের ছেলে মো. আরিফ খান জয় (২৩), লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া এলাকার মো. আজাদের ছেলে মো. তারেক (২৩)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গালুয়া দুর্গাপুর এলাকার মো. সাইদুর রহমান আজাদের ছেলে মো. মাসুম বিল্লাহর ঘরে গুপ্তধন আছে- এমন তথ্য জানায় জুয়েল নামে প্রতারক চক্রের এক সদস্য। গুপ্তধন তুলতে ভারত থেকে তান্ত্রিক ভাড়ার কথা বলে প্রথম দফায় গত ১৫ এপ্রিল এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে দ্বিতীয় দফায় ৩ সেপ্টেম্বর তান্ত্রিক নিয়ে আসার খরচ বাবদ পাঁচ হাজার বিকাশে নেয় জুয়েল।

১৭ সেপ্টেম্বর মাসুমের বাড়িতে আসেন তারা এবং মাসুমের ঘরের মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন খুঁজতে থাকেন জুয়েল, আরিফ ও তারেক। শেষে তৃতীয় দফায় গুপ্তধন পরশপাথরসদৃশ স্বচ্ছ কাঁচের ওয়েট পেপার মাটির মধ্যে পুঁতে সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে এবং সেটি পরিশোধিত করতে তারা সিঁদুর, রক্ত, সাপের মাথা ক্রয় করতে চল্লিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় মাসুমের সন্দেহ হলে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন তিনি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়েল পালিয়ে যায়। বাকি দুইজন আরিফ ও তারেক গ্রেফতার হয়।

রাজাপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোবাইল ফোন ছি’নতা’ই করতে গিয়ে শিশুকে হ’ত্যা!
মাদারীপুরে শিবচরে মোবাইল ফোন ছিনতাই করতে গিয়ে রতন মোল্লা (৮) নামের এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা ও সোহান (৯) নামের অপর এক শিশুকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মেহেদী হাসান কায়েসকে (১৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর কথা বলে

রতন ও সোহান নামে দুই শিশুকে ফুসলিয়ে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়কের কাছে নিয়ে আসে মেহেদী হাসান কায়েস। এরপর সোহানকে খাবার আনার কথা বলে দূরে রেখে রতনকে রাস্তার ধারে একটি গাছের নিচে নিয়ে যায়।

সেখানে রতনের কোমরে থাকা প্যান্টের বেল্ট গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। কিছুক্ষণ পরে সোহানকে নিয়ে কায়েস কাঁঠালবাড়ি ঘাটসংলগ্ন বালুর মাঠে নিয়ে গলায় বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়।

এসময় সোহান চিৎকার করলে কায়েস পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন সোহানকে উদ্ধার করে কাঠালবাড়ি এলাকায় তার নানা বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তার আত্মীয় স্বজনরা শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিবচর থানায় নিয়ে যান।

পরে সোহানের দেওয়া তথ্য মতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, ওসি মো. মিরাজ হোসেনসহ পুলিশের একটি টিম কায়েসকে তার নানা বাড়ি এলাকা থেকে আটক করেন।

এসময় কায়েস প্রাথমিকভাবে পুলিশের নিকট রতনকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে কায়েসকে সাথে নিয়ে কাঠালবাড়ী এলাকায় দীর্ঘক্ষণ খোঁজ করার পর রাত ১২টার দিকে নিহত রতনের মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা গত রাত (মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর) দশটার দিকে জানতে পারি কাদিরপুরে একটি বাচ্চা মিসিং আছে, ইতোমধ্যে সোহান আমাদের কাছে আসে এবং ঘটনা বলে।

সোহানের দেওয়া তথ্যমতে আমরা কায়েসকে গ্রেফতার করেছি। কায়েস প্রাথমিকভাবে ঘটনা স্বীকার করেছে সে রতনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

কায়েসের দেওয়া তথ্যমতে আমরা রতন নামে ৮ বছরের একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করেছি। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি একটি মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শিবচর থানায় একটি মামলা হয়েছে। বুধবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আসামিকে দুপুরে মাদারীপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.