Breaking News

টয়লেটে তালাবদ্ধ প্রেমিক-প্রেমিকা, ৯৯৯-এ ফোনে উদ্ধার

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে বগুড়ার ধুনটের একটি মাদরাসার টয়লেট থেকে প্রেমিক-প্রেমিকাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের বিলচাপড়ি দাখিল মাদরাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, দুই বছর আগে বিলচাপড়ি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে সোহাগ হোসেনের (২০) সঙ্গে ওই মাদরাসার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোহাগ হোসেন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সেখান থেকে ছুটি নিয়ে রোববার সকালের দিকে ওই মাদরাসায় প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যান।

একপর্যায়ে তারা মাদরাসার টয়লেটে প্রবেশ করে। এসময় স্থানীয়রা বাহির থেকে টয়লেটে তালা লাগিয়ে দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে সোহাগ হোসেন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘণ্টা পর প্রেমিক-প্রেমিকাকে উদ্ধার করে থানা নিয়ে যায়।

ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন খান বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে প্রেমিক-প্রেমিকাকে মাদরাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের থানায় ডাকা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

ছাত্রীর সাহসিকতায় উত্যক্তকারী কারাগারে

বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে স্কুল যাওয়া আসার পথে শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির দায়ে এক ইজিবাইক চালককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম স্কুলে আদালত বসিয়ে ওই চালককে এই দণ্ড দেন। পুলিশ দুপুরেই তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

দণ্ড পাওয়া আব্দুল কাদের (৩৩) বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের হেকমত শেখের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম জানান, ইজিবাইক চালক আব্দুল কাদের সবার উপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করে নেয়ায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দুপুরে তাকে পুলিশের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী বলে, আমাদের রিকশা অথবা ইজিবাইকে চড়ে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। কিছু চালক আছেন যারা মেয়েদের সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিসহ নানা কটূক্তিমূলক কথাবার্তা বলে থাকেন। এই চালক কয়েকদিন ধরে আমাকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে ফলো করে আসছিল।

সে বলে, এর মধ্যে দুই দিন তিনি আমাকে তার ইজিবাইকে উঠতে বললে আমি তাতে না ওঠায় তিনি আমাকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও উত্ত্যক্ত করেন। আমি বিষয়টি পরিবারকে জানালে পরিবার আমাকে ওই চালককে শনাক্ত করতে উৎসাহ দেয়। আমি পরিবারের উৎসাহের জায়গা থেকে ওই চালককে শনাক্ত করি। তার শান্তি হওয়ায় আমি দারুণ খুশি।

ওই ছাত্রী আরও বলে, আমি চাইছিলাম ওই লোকটি আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছে তা যেন আমার স্কুলে পড়া অন্য সহপাঠী বা শিক্ষার্থীদের বেলায় না ঘটে। লোকটির সাজা হওয়ায় উনার মতো উত্ত্যক্তকারীরা এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে বলে আশা এই শিক্ষার্থীর।

বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পাল জানান, এই ইজিবাইক চালক বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসার পথে দুইদিন অশ্লীল অঙ্গ ভঙ্গি ও উত্ত্যক্ত করে। এই বিষয়টি সে তার পরিবারকে জানায়। পরিবার তাকে বলে- তুমি যদি স্কুলে যাওয়ার পথে ওই ব্যক্তিকে আবার দেখতে পাও তাহলে আমাদের খবর দেবে।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুলে রওনা দিয়ে আমলাপাড়া এলাকায় পৌঁছে ওই চালককে দেখতে পেয়ে তার পরিবারকে জানায় মেয়েটি। তার পরিবার স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় নিয়ে ইজিবাইক চালককে ধরে স্কুলে নিয়ে আসে। পরে আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে প্রশাসন এসে তাকে দণ্ড দেয়।

ভবিষ্যতে স্কুলে পড়ালেখা করা মেয়েদের আর কেউ যাতে রাস্তায় বিরক্ত না করে এই মেয়েটির সাহসী পদক্ষেপ তার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে জানান ওই শিক্ষক।

বাগেরহাট অভিভাবক ফোরামের সভাপতি আহাদ উদ্দিন হায়দার জানান, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর যে সাহসী ভূমিকা রেখেছে তা উত্ত্যক্তকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত। মেয়েটির সাহসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্কুলে আসা যাওয়ার পথে মেয়েদের কেউ বিরক্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবক অথবা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাবে। তাহলে পথে দাঁড়িয়ে থাকা এসব উত্ত্যক্তকারীরা তোমাদের আর উত্ত্যক্ত করার সাহস দেখাবে না।

Check Also

চট্টগ্রামে পাহাড়ধস

এবার বর্ষার শুরুতে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। কিন্তু এখনো পাহাড় কেটে পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.