মেয়ের নবজাতক সন্তা’নকে গ’র্ভে থাকতেই চুরি করে বিক্রি করে দেন মা

চট্টগ্রামে মেয়ের নবজাতক সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন এক মা। গত মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতককে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চুরি করে বেচে দেন তিনি।

এ ঘটনায় মামলা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নবজাতককে উদ্ধার করে শিশুটির মা তানিয়ার কোলে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয় পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত থাকায় তানিয়ার মা রাবেয়া খাতুন, ক্রেতা মনোয়ারা বেগম ও তাঁর ভাই মোহাম্মদ হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তানিয়া গর্ভাবস্থায় স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত হয়ে মায়ের বাড়ি রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা সদর এলাকায় ফিরে আসেন। গর্ভাবস্থায় মেয়ে ফিরে আসায় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তানিয়ার মা রাবেয়া খাতুন। পরে তিনি সন্ধান পান নিঃসন্তান নারী মনোয়ারা বেগম ও তাঁর ভাই মোহাম্মদ হারুনের।

রাবেয়া খাতুন তাঁদের কাছে তানিয়ার সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে অগ্রিম একটি মৌখিক চুক্তিও করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তানিয়ার চিকিৎসাসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য হারুনের কাছ থেকে ৫৭ হাজার টাকা নেন তিনি।

গত ২ অক্টোবর তানিয়া ছেলেসন্তান জন্ম দেন। নবজাতক অসুস্থ হওয়ায় ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে। চিকিৎসাধীন তানিয়ার মা রাবেয়া খাতুন নাতিকে হাসপাতালে রেখে তানিয়াকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গত মঙ্গলবার নবজাতককে হাসপাতাল থেকে চুরি করে নিয়ে হারুন ও মনোয়ারা বেগমের হাতে হস্তান্তর করেন রাবেয়া খাতুন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন নবজাতককে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে শিশুটির নানিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিশুটির নানি রাবেয়া খাতুন স্বীকার করেছেন গর্ভে থাকতেই শিশুটিকে বেচে দেন তিনি।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ এলাকা থেকে চার দিন বয়সি ওই শিশুটিকে বুধবার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন শিশুটির নানি রাবেয়া খাতুন, মনোয়ারা বেগম ও মো. হারুন। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছেন শিশুটির মা তানিয়া বেগম।

পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, ২ অক্টোবর প্রসবের জন্য চমেক হাসপাতালের ৩২নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তানিয়া বেগমকে। নবজাতকের জন্মের পর মা তানিয়াই হাসপাতালে দেখাশোনা করছিলেন নবজাতকের।

এর মধ্যে মঙ্গলবার হাসপাতালে নানির কাছে রেখে বাসায় যান তানিয়া। ফিরে এসে দেখেন, তার সন্তানকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের কাছে অভিযোগ করার পর শিশুটির নানি রাবেয়া খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, স্বামী বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ায় মেয়ের চিকিৎসার খরচ বহন করতে রাবেয়ার কষ্ট হচ্ছিল। সে কারণে তিনি শিশুটি গর্ভে থাকা অবস্থায় বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রসবের আগ থেকে বিভিন্ন সময়ে হারুন ও মনোয়ারার কাছ থেকে রাবেয়া ৫৭ হাজার টাকা নেন বলে ওসি জানান।

Check Also

নারী কণ্ঠে একাধিকবার ডাক, বাগানে তু’লে নিয়ে গৃহ’বধূ’কে গণ’ধ’র্ষণ

ভোলার মনপুরা উপজেলায় নারী কণ্ঠে একাধিকবার ডাক দিয়ে ঘরের দরজা খুলে হাত-পা ও মুখ বেঁধে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!