ডাক্তার না হয়েও অপারেশন করেন, গাইনি চিকিৎসার নামে নারীর সঙ্গে অ’স’ভ্যতা

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে আরিচা ডায়াগনোস্টিক অ্যান্ড ডক্টর চেম্বারে গাইনি সমস্যা নিয়ে গেলেন এক নারী। দীর্ঘদিন তার মাসিক নিয়মিত না হওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। চেম্বারে কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকলেও ক্লিনিকের মালিক (এমডি) এবং ‘স্বঘোষিত ডাক্তার’ আনোয়ার হোসেন নিজেই চিকিৎসার কথা বলে ওই নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া নজেদ মোল্লা নামের এক ব্যক্তি তারই অপচিকিৎসার শিকার হয়ে বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। অনুমোদনহীন এই ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে গ্রামের সাধারণ সহজ-সরল মানুষগুলো না বুঝে প্রতিনিয়ত চিকিৎসার নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।

ভুক্তভোগী ওই নারী কালের কণ্ঠকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমার কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে আরিচা ডায়াগনোস্টিক অ্যান্ড ডক্টর চেম্বারে যাই। এসময় আনোয়ার আমার সমস্যার কথা শুনে চেম্বারে বসিয়ে রুমে থাকা কয়েকজন নার্সকে দরজার পর্দা টেনে দিয়ে চলে যেতে বলেন। পরে আমার স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে তার সঙ্গে আমাকে শারীরিক সর্ম্পক করতেও বলেন। আর আমাকে নানা প্রলোভন দেখান। আমি তার কাজে বাধা দেই এবং তাকে ‘জুতাপেটা’ করবো ইত্যাদি বলার পর তিনি আমাকে ছেড়ে দেন। পরে আমি কান্নাকাটি করে ওখান থেকে বেরিয়ে আসি। বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নেবেন কিনা জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, আমি একজন স্বামী পরিত্যাক্তা নারী এবং আমার একটি সন্তান রয়েছে।

এ কারণে মানসম্মানের ভয়ে এ কয়দিন কিছু বলিনি। তবে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ করবো। আমি আনোয়ারের কঠিন বিচার চাই।

কথিত ডাক্তার আনোয়ারের অপচিকিৎসায় অসুস্থ হয়ে পড়া নজেদ মোল্লা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে আমার শরীরের স্পর্শকাতর অংশে একটি ফোঁড়া ওঠে।

আমি না বুঝে ওই ক্লিনিকে গেলে আনোয়ার আমার ফোঁড়া কেটে দেন। এসময় সবমিলিয়ে আমাকে পাঁচ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। আর সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ১২ শ’ টাকার ইনজেকশন দেন। এর পর থেকে শরীরে জ্বালাপোড়াসহ হাত-পা অবশ হতে থাকে।

এ বিষয়ে ওই ডায়াগনোস্টিকের এমডি আনোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমেই নারীর শ্লীলতাহানির বিষয়টি অস্বীকার করেন। আর এমবিবিএস না সম্পন্ন করে কীভাবে ডাক্তার হলেন এবং কেনইবা অপরেশন করলেন ইত্যাদি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট। অপারেশন করতে সমস্যা নাই।

আর রোগীর সাথে মীমাংসার কথা হয়েছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সরকারি অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘অনুমতি নাই, তাই কী! আমার মামা সিভিল সার্জন। কিসের অনুমতি? আপনি কিছুই করতে পারবেন না।’

মানিকগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। অনুমোদনহীন ডায়াগনোস্টিক সেন্টার চালানোর কোনো সুয়োগ নেই।

আর এমবিবিএস না হয়ে কোনোপ্রকার অপরেশন ও প্রেসক্রিপশন করতে পারবে না কেউ। যে করবে সে অপরাধী। তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর নারী শ্লীলতাহানির বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন দেখবে

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.