Breaking News

বিয়ের নাটক সাজিয়ে ৭ বছর ধরে ধ’র্ষণ!

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক নারীকে সাত বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে কারো কাছে বিচার চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে গুম করার হুমকি দেয় বলে জানান ওই নারী।

বিচারের আশায় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও বিচার পাননি ভুক্তভোগী নারী। যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ হলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম শফিউল্লাহর হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত নয়ন মিয়া ও ধর্ষণের সহায়তা করায় কাজী আবু তাহের ওরফে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি হয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, অভিযোগ দেওয়ার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম এ জন্য মামলা দায়েরে কালক্ষেপণ হয়েছে। এখন ঊর্ধ্বতনদের অনুমতি পেয়ে মামলা নিয়েছি।

ভুক্তভোগী জানান, থানায় অভিযোগ দায়েরের ১৯ দিন পর এসপির হস্তক্ষেপে মামলা রুজু হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় চল্লিশোর্ধ্ব ওই নারীর। তিনি দুই সন্তানের জননী। এরপর বাবার বাড়ি থেকে একটি এনজিওতে কাজ করতেন। সেখানে কাজ করার সুবাদে পরিচয় হয় গাজীপুরের কালীগঞ্জ বাজার এলাকার সবজি ব্যবসায়ী নয়ন মিয়ার (৪৫) সঙ্গে। পরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর প্রেমের সম্পর্ক।

এই সম্পর্কের সূত্র ধরে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে একাধিক স্থানে একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে নয়ন। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে স্থানীয় এক কাজীকে দিয়ে বিয়ের নাটক সাজিয়েও তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। রুমানা বিয়ের প্রমাণ (কাবিননামা) দেখতে চাইলে শুরু হয় নয়নের তালবাহানা। এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও নির্যাতিতা ওই নারী বিচার পাননি।

অবশেষে নয়ন মিয়া ও তুমুলিয়া ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আবু তাহের ওরফে ফারুক হোসেন কাজীকে অভিযুক্ত করে ভুক্তভোগী ওই নারী কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত নয়ন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিরচর গ্রামের আমান উল্লাহ ছেলে। বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভায় মুন্সুরপুর এলাকায় স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।

নির্যাতিতা ওই নারী জানান, বিয়ের ব্যাপারে চাপ দিলে বিভিন্ন দরবার শরীফ গিয়ে কসম কেটে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন নয়ন। এভাবে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তাদের প্রেম ও যৌন সম্পর্ক চলতে থাকে। এর মধ্যে ওই ভিকটিম বিয়ের রেজিস্ট্রিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করার কথা বললে বিয়ের নাটক সাজান নয়ন।

ভুক্তভোগী জানান গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের দড়িসোম গ্রামের কাজী আবু তাহের বাড়িতে নয়ন ও রুমানার বিয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে কাজী ছাড়াও রাখা হয় উকিল বাবা, মাওলানা ও সাক্ষী। সাদা কাগজে নেওয়া হয় পাত্র-পাত্রী স্বাক্ষর। বিয়ে পড়ানো শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এরপর তাকে নিয়ে কালিগঞ্জ পৌর এলাকার মনসুরপুর, দড়িসোম, বাঙ্গাল হাওলা ও গাজীপুর মহানগরীর মিরের বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রীর মতো সংসার করছেন। দীর্ঘ সাত বছরে নয়ন বিভিন্ন সময় নিজের ব্যবসার মন্দার অজুহাত দেখিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন চার-পাঁচ লাখ টাকা। একপর্যায়ে টাকা দিতে না পারায় নয়ন ভিকটিমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।

তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে থানা পুলিশের ভয় দেখালে নয়ন তাকে বিয়ে করার কথা অস্বীকার করে। বরং নয়ন তাকে বলে তোকে ফুঁ দিয়ে বিয়ে করেছি ফু দিয়ে আবার তালাক দিয়েছি। পারলে তুই আমার কিছু করিস। আর এ ব্যাপারে তুই যদি কারো কাছে যাস, তাহলে তোকেখু\’ন করে লাশ গুম করে ফেলব।

ওই নারী জানান, এখন স্ত্রী হিসেবে তাকে মেনে নিতে গড়িমসি করছে নয়ন। এদিকে ওই কাজীর কাছে গেলে কোনো কাগজপত্র হয়নি বলে তিনি জানান।

কাজী আবু তাহের বলেন, ওই দিন আমার বাড়িতে তারা এসেছিলেন। তবে বিয়ের ব্যাপারে কোনো কাগজপত্র বা বিয়ে পড়ানো হয়নি।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.