Breaking News

ছয় বছরের ভালোবাসার সংসার ৬ মাসেই ধুলিসাৎ

দীর্ঘ ৬ বছরের ভালোবাসায় ঘর বেধেছিলো বাঁশখালীর সন্তান সঞ্জীবন দাশের সঙ্গে চাঁদুপুরের দুলাল দাশের মেয়ে অঞ্জলি দাশ। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বিয়ের ৬ মাসের মাথায় প্রাণ গেলো অঞ্জলীর। যৌতুক না পেয়ে শ্বশুর বাড়িতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করছেন নিহতের পরিবার।
সোমবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ দুই মাস ১০ দিন চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থেকে মারা যান গুরুতর আহত অঞ্জলী।

এ বিষয়ে নিহতের ভাই সুজিত দাশ সিভয়েসকে জানান, বাশঁখালীর সাধনপুর গ্রামের উৎপল দাশের ছেলে সঞ্জীবন দাশের সঙ্গে চলতি বছরের মার্চে তার বোন অঞ্জলির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে কারণে-অকারণে তার বোনকে মারধর করে স্বামী সঞ্জীবন দাশ। সে তার কাছে প্রায়ই যৌতুকের টাকা চায়। গত ১৮ আগস্ট বাবার বাসা থেকে ফিরিঙ্গবাজার শ্বশুর বাড়ি যায় অঞ্জলি। ওই দিন রাতেই সঞ্জীবনের পরিবার জানায় অঞ্জলি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

সুজিত দাশ আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে তাকে বেসরকারী একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানালেও বোনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাদেরকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। পরে পুলিশের সহায়তা নিয়ে আইসিউতে বোনকে দেখার সুযোগ পাই। পরবর্তীতে আমরা অঞ্জলিকে ওই হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দিবাগত রাতে তার (অঞ্জলি) মৃত্যু হয়।’ তবে অঞ্জলির স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; এটা সম্পূর্ণ একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি সুজিত দাশের।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন সিভয়েসকে বলেন, ‘ফিরিঙ্গবাজারের এক গৃহবধূর মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে তদন্তে বেরিয়েছে। বিস্তারিত রিপোর্ট পেলে জানা যাবে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।’

ছোট বোনের সামনে বড় বোনের শ্লীলতাহানি চবি শিক্ষার্থীর!

চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ছোট বোনের সামনে বড় বোনকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর সানমার শপিংমলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় বুধবার (২৭ অক্টোবর) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দায়ের করবেন ছোট বোন। জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিউটের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী ওই মহিলার ছোট বোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আমি আর আমার বোন সানমারের সামনে রাস্তা পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার বোন রাস্তা পার হয়ে তার বাসায় যাবে, কর্নেলহাট।

আর আমি দাঁড়িয়ে থেকে তাকে বিদায় দিচ্ছিলাম। এমন সময় একটা ছেলে রাস্তার একপাশ পার হয়ে মাঝখানে দাঁড়িয়ে যায়। আমার বোনও একপাশ পার হয়ে তার পাশে যাওয়া মাত্রই আমার বোনের গায়ে হাত দেয়। এ সময় রাস্তায় আর কেউ ছিল না।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই ছাত্রী বলেন, ‘ছেলেটা যথেষ্ট দূরে ছিল। হুট করে ও আমার আপার সাথে ঘেষে আমার আপার স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। আমার আপা যথেষ্ট ব্যাথা পেয়েছে। সাথে সাথে ছেলেটা রোড পার হওয়ার জন্য হাঁটা ধরতেই আপা পেছন থেকে ওকে ধরে ফেলে। খুব দ্রুতই ঘটে ঘটনাটি।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীসহ তার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড দেখে জানা যায় তার নাম মাহফুজুর রহমান। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিউটের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে মানুষজনের জোরাজুরিতে আমরা তাকে ছেড়ে দিই।’

ওই ছাত্রী বলেন, ‘ঘটনাস্থলের পাশে ফ্লেভার্সের একটা ছেলে পারলে আমার হাত থেকে ওকে কেড়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছিল। অনেকে বলছে মাফ করে দিতে। সুতরাং বুঝতে পারছিলাম এই কাজ ছেলের জন্য নতুন না। সে যথেষ্ট অভিজ্ঞ।

আমি ও আমার বোন দুজনেই বোরখা পরা ছিলাম। আমার বোন ৩৫+। তাহলে বাচ্চা মেয়েদের সাথে ওই ছেলে কী করে এটাও ভেবে দেখার বিষয়। আমাদের ভার্সিটির মেয়েরাও বা কিভাবে নিরাপদ ওর হাত থেকে?

ভুক্তভোগী নারী জানান, , বিষয়টি নিয়ে আমার ছোট বোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিলে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমরা ছেলেটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুজ্জামান বলেন, এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। আমি ভুক্তভোগীকে ফোন করেছি। তাদের অভিযোগ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Check Also

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বাবা

ঘটনাটা মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার। এই পাঁচ ঘণ্টার ঘটনা লিখতেই যখন এত শব্দ লাগল, তাহলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.