Breaking News

ভালোবাসার বিয়ে, শেষ হলো ‘খু’নে’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরে প্রেমতলা এলাকায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর অভি ধর (২৮) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। নিহত নারীর নাম জ্যোতি সূত্রধর (২০)। তিনি পৌর সদরের প্রেমতলা এলাকার রামচন্দ্র সূত্রধরের মেয়ে।

বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যক্তিরা আহত অভি ধরকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পুলিশ জ্যোতি সূত্রধরের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত জ্যোতি সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। আহত অভি চট্টগ্রাম নগরের একটি স্বর্ণের দোকানের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি বাঁশখালী উপজেলায়।

সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, দুই বছর আগে জ্যোতি সূত্রধরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন অভি। প্রথম দিকে উভয়ের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। কিন্তু তাঁরা চট্টগ্রাম নগরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে সংসার করছিলেন। সম্প্রতি দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিলে জ্যোতি তাঁর বাবার বাড়ি সীতাকুণ্ডে চলে যান। অভি তাঁকে একাধিকবার ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জ্যোতির বাবা তাঁদের জানিয়েছেন, জ্যোতি ও অভি দুজনেই বিয়ে মেনে নেওয়ার জন্য তাঁদের নিজ নিজ পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে উভয়ের পরিবার বিয়ে মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হলেও ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক দাবি করা হয়। বিষয়টি মেনে নেয়নি জ্যোতির পরিবার। এতে রাগে-ক্ষোভে রাতে জ্যোতিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন অভি। এরপর নিজেও নিজের পেটে ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন
বিয়ের কথা বলে ‘ধ’র্ষণ’, মামলার বাদীকে হুমকির অভিযোগ

ঢাকার একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিয়ের করার কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন এক নারী আলোকচিত্রী। এ বিষয়ে মামলার তিন মাসেও রিজওয়ানুল ইসলাম ওরফে রিয়াদ (৩৩) নামের আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই সুযোগে অভিযুক্ত রিয়াদের স্বজনেরা মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী নারীকে হুমকি–ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই নারী আলোকচিত্রীর বরাত দিয়ে কলাবাগান থানার পুলিশ জানায়, গত জানুয়ারি মাসে রিজওয়ানুল ইসলামের সঙ্গে ওই নারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। রিজওয়ানুল প্রেমের প্রস্তাব দিলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে রিজওয়ানুল তাঁকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ওই নারী চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখান থেকে ফেরার পর রিজওয়ানুল তাঁর খোঁজখবর নিয়ে ঘনিষ্ঠ হন। পরে রিজওয়ানুল তাঁর ছোট ভাইয়ের বিয়ের কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেন। পরে সেই টাকা চাইতে গেলে রিজওয়ানুল ওই নারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে রিজওয়ানুল তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চান।

এরপর গত ২৭ মে সকালে রিজওয়ানুল ওই নারীর বাসায় গিয়ে তাঁকে ‘ধর্ষণ’ করেন। লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে তিনি চুপ থাকলেও ৪ জুলাই রিজওয়ানুলের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। অভিযুক্ত রিজওয়ানুল ইসলামের বাড়ি নীলফামারীর পূর্ব কুখাপাড়ার নতুন জেলখানা রোডে। তিনি বনানীর একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। থাকতেন মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির ৪ নম্বর সড়কের ১৯৭ নম্বর বাড়িতে।

মঙ্গলবার ভুক্তভোগী নারী প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, রিজওয়ানুল গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁর ভাইসহ স্বজনেরা এখন মামলা তুলে নিতে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

গত রোববার এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) শরিফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, পরিকল্পিতভাবে রিজওয়ানুল ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পালিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

হুমকির বিষয়ে এসি ফারুকুজ্জামান ভুক্তভোগী নারীকে কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.