Breaking News

‘একটু ধরেন’ বলেই হাসপাতালে শিশু ফেলে গেলেন নারী

‘বাচ্চাটা একটু ধরেন, আমি আসতেছি’ বলেই সাত মাস বয়সী ছেলেশিশুকে হাসপাতালে এক নারীর কাছে দিয়ে চলে গেছেন আরেক নারী।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় শিশুটিকে রেখে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত এক নারী শিশুটিকে নিজের বলে দাবি করেন। তবে সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে শিশু দেওয়া হয়নি। শিশুটি বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অধীনে আছে। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত শিশুর শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসা কর্মকর্তা আতাউল গনি।

আতাউল গনি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রথম আলোকে জানান, বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী দেখা হচ্ছিল। সেখানে রোগী দেখাতে আসা এক নারীর কাছে বাচ্চা রেখে চলে যান অজ্ঞাত এক নারী। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কেউ শিশুটিকে নিতে আসেননি। একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে ওই নারী কর্তব্যরত চিকিৎসককে শিশুটির বিষয়ে জানান। পরে ওই নারী কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন।

আতাউল গনি বলেন, ‘আমরা শিশুটিকে ভর্তি রেখেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটি আমাদের কাছে আছে। কেউ দাবি করলে যাচাই–বাছাই করে দেখা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন
ভালোবাসার বিয়ে, শেষ হলো ‘খু’নে’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরে প্রেমতলা এলাকায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর অভি ধর (২৮) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। নিহত নারীর নাম জ্যোতি সূত্রধর (২০)। তিনি পৌর সদরের প্রেমতলা এলাকার রামচন্দ্র সূত্রধরের মেয়ে।

বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যক্তিরা আহত অভি ধরকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পুলিশ জ্যোতি সূত্রধরের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত জ্যোতি সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। আহত অভি চট্টগ্রাম নগরের একটি স্বর্ণের দোকানের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি বাঁশখালী উপজেলায়।

সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, দুই বছর আগে জ্যোতি সূত্রধরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন অভি। প্রথম দিকে উভয়ের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। কিন্তু তাঁরা চট্টগ্রাম নগরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে সংসার করছিলেন। সম্প্রতি দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিলে জ্যোতি তাঁর বাবার বাড়ি সীতাকুণ্ডে চলে যান। অভি তাঁকে একাধিকবার ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জ্যোতির বাবা তাঁদের জানিয়েছেন, জ্যোতি ও অভি দুজনেই বিয়ে মেনে নেওয়ার জন্য তাঁদের নিজ নিজ পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে উভয়ের পরিবার বিয়ে মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হলেও ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক দাবি করা হয়। বিষয়টি মেনে নেয়নি জ্যোতির পরিবার। এতে রাগে-ক্ষোভে রাতে জ্যোতিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন অভি। এরপর নিজেও নিজের পেটে ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.