নেত্রকোনায় ট্রেনের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃ’ত্যু

নেত্রকোনায় ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মা ও মেয়ে মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলায় ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রেলপথের সতরশ্রী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছিচড়াকান্দা গ্রামের মৃত আবদুর রহিমের স্ত্রী হাজেরা বেগম (৬০) ও তাঁর মেয়ে সদর উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের আমান্তু মিয়ার স্ত্রী জোৎস্না আক্তার (৩৮)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজেরা বেগম কয়েক দিন আগে মোবারকপুর গ্রামে মেয়ে জোৎস্না আক্তারের বাড়িতে বেড়াতে যান। আজ বিকেলে তিনি মেয়েকে নিয়ে সতরশ্রী এলাকায় রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী ২৬৪ নম্বর ডাউন লোকাল ট্রেনের সঙ্গে হাজেরা বেগম ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী আবুল মিয়া বলেন, ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ওই বৃদ্ধা পড়ে গেলে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁর মেয়ে জোৎস্নাও ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। ট্রেন চলে গেলে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালের নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলেই তাঁরা মারা যান।

 

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মোহনগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া বে।

 

মামীর বোনকে বিয়ে করতে না পেরে মামাকে কুপিয়েছে ভাগ্নে

বরগুনায় মামীর বোনকে বিয়ে করতে না পেরে মামা ফজলু প্যাদাকে (৪৫) কুপিয়ে আহত করেছে ভাগ্নে মাহফুজ (১৮)। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বুড়িরচর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

বরগুনা থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফজলু প্যাদাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাগ্নে মাহফুজ তাঁকে কুপিয়েছে।

 

গুরুতর জখম ফজলুকে উদ্ধার করে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক মিয়া জানান, ফজলু প্যাদা ও মাহফুজ সম্পর্কে আপন মামা ভাগ্নে। মামার শালীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া নিয়ে ভাগ্নে মাহফুজের সাথে ফজলুর মতবিরোধ চলছিল।

বিষয়টি নিয়ে এক পর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। এর জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাহফুজ ও তার মা কুলসুম বেগমের সাথে ফজলু প্যাদার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মাহফুজ উত্তেজিত হয়ে ধারালো দা দিয়ে ফজলু প্যাদার মাথায় উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে।

এসময় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরপরই মাহফুজ ও তার মা কুলসুম বেগম বসতঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিহার রঞ্জন বৈদ্য জানান, ফজলু প্যাদা নামের একজনকে জখম অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের সাত আটটি জখম হয়েছে।

যে কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফজলুর সাথে থাকা ছেলে সাব্বির প্যাদা জানান, ” প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার বাবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কক্ষে রাখা হয়েছে।

Check Also

সিলেটে পানি কমছে, তবে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ

সিলেট নগর ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যার পানি অনেকটাই কমেছে। তবে এখন রাস্তাঘাটে জমে থাকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.