Breaking News

পূর্ণতা পাওয়ার পথে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। সেই অনুযায়ী বেশ জোরেই এগিয়ে চলেছে পদ্মা সেতুর কার্যক্রম। পদ্মা সেতুতে এখন শুরু হয়েছে ভায়াডাক্টে (ডাঙার অংশ) পিচঢালাই এর কাজ। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে মূল সেতুতে পিচঢালাই শুরু হবে।

    

গতকাল বুধবার (২৭ অক্টোবর) ভায়াডাক্টে এই পিচঢালাই্য়ের কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। তবে এর আগেই পিচঢালাই শেষ হবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

    

পদ্মা সেতুর স্টিলের কাঠামোর (স্পেন) ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব বসিয়ে যানবাহন চলার প্রাথমিক পথ তৈরি করা হয়। এখন এর ওপর ১০০ মিলিমিটার পুরো পিচঢালাই হবে। এরপরই সেতুর উপরিভাগের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন আলোকসজ্জা, সাইড ওয়ালসহ কিছু কাজ বাকি থাকবে।

    

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ৮৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মূল সেতুর কাজ এগিয়েছে ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, নদীশাসনের কাজের অগ্রগতি ৮৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মূল সেতুর কাজ আগামী জুনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। নদীশাসনের কাজ কিছু বাকি থাকতে পারে। তবে এর জন্য যানবাহন চলাচলে সেতু চালু করতে কোনো বাধা নেই।

    

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পিচঢালাইয়ের কাজে দুটি পর্ব আছে। প্রথম পর্বে কংক্রিটের পথের ওপর চার মিলিমিটারের পানিনিরোধক স্তর বসানো হচ্ছে, যা ওয়াটারপ্রুফ মেমব্রেন নামে পরিচিত। এটি অনেকটা প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের মতো। ইংল্যান্ড ও ইতালি থেকে এই আচ্ছাদন এসেছে। তারপর পাথর, সিমেন্ট ও বিটুমিন দিয়ে কয়েক স্তরের পিচঢালাই হবে। সব মিলিয়ে পুরু হবে প্রায় ১০০ মিলিমিটার।

    

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, পানিনিরোধক আচ্ছাদনও একবারে বসানো হচ্ছে না। চার স্তরে এই আচ্ছাদন দেওয়া হবে। শেষ স্তরের আচ্ছাদন দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত পিচঢালাই করতে হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ৭ নভেম্বর থেকে পিচঢালাইয়ের কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু তা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    

সেতু বিভাগ সূত্র বলছে, গত ১৩ জুলাই বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মালামালবাহী একটি জাহাজ ডুবে যায়। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন লোহার মালামাল ছিল। মালামালের মূল্য ১৮ কোটি টাকার মতো। শুরুতে ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে মালামাল উদ্ধারে চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু সফল হওয়া যায়নি। এ কারণে পদ্মা সেতুর রেলপথের পাশে হাঁটার পথ তৈরি ও গ্যাস পাইপলাইন বসানোর কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এটাকে দুশ্চিন্তার কারণ মনে করছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী মালবাহী জাহাজ পরিবহন কমে গেছে। নতুন করে এসব মালামাল আনতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। প্রয়োজনে কার্গো বিমানে মালামাল আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর পুরোটা দৃশ্যমান হয়। এর ফলে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরাকে যুক্ত করেছে পদ্মা সেতু।

Check Also

সিলেটে রাতভর বৃষ্টি, বেড়েছে নদ-নদীর পানি

সিলেটে গতকাল মঙ্গলবার রাতভর ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তবে আজ বুধবার সকালের দিকে আকাশে উঁকি দিয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.