প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চাচাতো ভাইকে হত্যা

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এক সদস্য প্রার্থী তাঁর চাচাতো ভাইকে হত্যা করিয়েছেন। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চার আসামি বৃহস্পতিবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোমেন দাশ প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে ইউপি নির্বাচনের আগের দিন মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের শাসন গ্রামের চরপাড়া (উত্তর পাড়) এলাকায় আঠারো বাকি নদের চর থেকে মো. মনির শেখের (২৬) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগের রাতে মনির চুনখোলা ইউপি নির্বাচনের সদস্য প্রার্থী তাঁর চাচাতো ভাই মামুন শেখের গণসংযোগ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকে মামুন শেখ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কেরামত ভূঁইয়ার কর্মী-সমর্থকেরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করতে থাকেন। পরে এ ঘটনায় মনিরের বড় ভাই কবির শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মোল্লাহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মোল্লাহাট থানা–পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনির হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার  করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ছাড়াও একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মো. জাহিদ শেখ (৪৫), মো. জাহিদ শরীফ (৩২), ইকবাল মোল্লা (৩৭) ও মো. রেজোয়ান শেখ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে ওই চারজন বলনে, নির্বাচনের আগে অপর সদস্য প্রার্থীকে ফাঁসাতে এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সে অনুযায়ী প্রথমে মামুন শেখের কর্মী জাহাঙ্গীরকে হত্যার পরিবল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে জাহাঙ্গীরকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকেও আনা হয়। তবে সেখানকার পরিবেশ সন্দেহজনক হওয়ায় জাহাঙ্গীর দ্রুত পালিয়ে যান। তখন প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনির শেখকে হত্যা করা হয়।

মোল্লাহাট থানার ওসি সোমেন দাশ প্রথম আলোকে বলেন, মূলত প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই নিজের লোককে হত্যা করা হয়। আসামিরা এবং হত্যার শিকার মনির শেখ সবাই ইউপি সদস্য মামুন শেখের কর্মী-সমর্থক। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজয়ী হলে এলাকায় থাকতে পারবেন না, এমন কথা বলে মামুনের কর্মী ইখলাছ শেখ সবাইকে তাঁর কথামতো কাজ করতে বলেন। সে অনুযায়ী ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সবাই শাসন গ্রামের উত্তর পাড়ায় জড়ো হয়। পরে আসামিরা সেখানে আগে থেকে বেঁধে রাখা মনির শেখকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.