ফুটপাতে দোকান, বখরা খায় নেতা ও পুলিশ

উত্তরা আবাসিক এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরা মডেল টাউন ১ থেকে ১০ নম্বর সেক্টর, আব্দুল্লাপুর (আংশিক), পুরাকৈর (আংশিক), শৈলপুর (আংশিক), ফায়দাবাদ (আংশিক), বাউনিয়া (আংশিক), দক্ষিণখান (আংশিক) ও রানাভোলা (আংশিক) এলাকা।

 

 

 

৭০ হাজার ভোটারের এই ওয়ার্ডে প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস। বর্তমানে ওয়ার্ডটির প্রধান সমস্যা ফুটপাত দখল করে সাজানো অবৈধ দোকান। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। ফুটপাত উচ্ছেদ করলেও আবার এটি দখল হয়ে যায়। আর এর পেছনে কিছু দলীয় নামধারী নেতা ও পুলিশের অসাধু সদস্যরা জড়িত বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি এসব একেবারে উচ্ছেদ করতে কিন্তু কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর ছত্রছায়ায় এরা আবার এসে বসে।’ জানা যায়, প্রতিদিনই এখান থেকে চাঁদা তোলে কিছু লোক। এর মধ্যে রাসেল মন্ডল, রুবেল, জাকির নামে কয়েক জনের নাম প্রকাশ করেন হকাররা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, আব্দুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ, আজমপুর রাজউক মার্কেটের পাশে, নর্থ টাওয়ারের পাশের ফুটপাতসহ ১ থেকে ১০ নম্বর সেক্টরের প্রধান সড়কের বেশির ভাগ ফুটপাতেই হকাররা জামাকাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এর মধ্যে অনেকের দাবি, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ বখরার বিনিময়ে এই ফুটপাতে দোকান পরিচালনা করেন। ফুটপাতের ভোগান্তির বিষয়ে এক পথচারী বলেন, অভিজাত এলাকায় এমন ফুটপাত দখল কোনোভাবেই মানা যায় না। এদের কারণে ভালোভাবে হাঁটাও যায় না। উচ্ছেদ করলেই আবার দুই দিন পরে এসে বসে যায়।

 

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান বলেন, ‘ফুটপাতের হকারদের বিষয়ে ব্র্যাকের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের চুক্তি হয়েছে। যার মাধ্যমে আমরা হকারদের জন্য দুটি সড়কে আলাদা করে তাদের বসার ব্যবস্থা করব সপ্তাহে তিন দিন। যেসব সড়কে মানুষের চলাচল কম থাকবে। সেখানে ব্যবস্থা করা হবে। আর এর জন্য ইতিমধ্যে রাস্তা নির্ধারণ করার কাজ শুরু করেছে ব্র্যাক। আর সড়ক হবে পূর্ব ও উত্তর থানা মিলিয়ে।’ বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কগুলোতে খানাখন্দ না থাকলেও ফায়দাবাদ ও বাউনিয়া এলাকায় কিছু অংশে ভাঙাচোরা রয়েছে।

 

বিষয়ে কাউন্সিলর বলেন, ‘থোক বরাদ্দ থেকে আমি অনেক রাস্তা করে দিয়েছি। অল্প কিছু রাস্তা এখনো বাকি আছে। সবগুলোই আমার মেয়াদে শেষ করব।’ তিনি বলেন, ‘প্রায় ৩২০ কোটি টাকার কাজ করেছি। প্রায় ১ হাজার ৫০০ এলএডি লাইট লাগিয়েছি। উত্তরা লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কাজ করব শিগিগরই। ৪ নম্বর সেক্টরে পুকুরে ঘাট বাঁধিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে আছে। দলিপাড়ায় চারটি রাস্তা থেকে তিনটি পাকা করা হয়েছে ইতিমধ্যে। জসীমউদ্দীন থেকে ইউসিবি পর্যন্ত রাস্তা করে দেওয়া হবে শিগিগরই।’

Check Also

পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনে টোল আদায় ২ কোটি ৯ লাখ

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরুর প্রথম দিনে ৫১ হাজার ৩১৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.