মা কেন্দ্রে, শিশুর কান্নায় এগিয়ে এলেন আরেক পরীক্ষার্থীর স্ত্রী

রাজধানীর নিউমার্কেটের অদূরে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) তিন নম্বর গেট এলাকায় বছরখানেকের একটি শিশু অঝোরে কাঁদছিল এক নারীর কোলে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি বারবার বলছিলেন, ‘এই তো বাবা, মায়ের পরীক্ষা শেষ। এখনই চলে আসবে।’ সেই নারীও পরম স্নেহে শিশুটির কান্না থামানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ফল মিলছিল না। শেষমেষ ওই লোকের কাছে তার সন্তানকে ফিরিয়ে দিয়ে অপারগতার কথা বলছিলেন তিনি।

    

আজ শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার কয়েক মিনিট আগে বিজিবির তিন নম্বর গেটের বাইরে ফুটপাত সংলগ্ন রাস্তায় এ দৃশ্য দেখা যায়। শিশুটি কাঁদছে কেন জানতে চাইলে আজিজুর রহমান রিপন পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি জানান, তার স্ত্রী সন্ধ্যা মনি বিজিবি এলাকার ভেতরের পরীক্ষা কেন্দ্রে ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে গিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এসেছেন তারা। মা ছাড়া ছেলে ইমরুল আজিজ বারবার কান্না করছে। শিশুটির কান্না দেখে আরেক পরীক্ষার্থীর স্ত্রী ওই নারী কান্না থামাতে কোলে তুলে নিয়েছিলেন।

    

শুধু আজিজুর রহমান রিপন নন, তার মতো শত শত অভিভাবককে বিজিবির তিন নম্বর গেটের সামনে দুপুরে এভাবে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

    

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগীয় শহরে আজ ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাডারের এক হাজার ৮১৪টি পদের জন্য আবেদন জমা পড়ে চার লাখ ৩৫ হাজার ১৯০টি। এক হাজার ৮১৪ পদের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০, পুলিশে ১০০, পররাষ্ট্রে ২৫ , শিক্ষায় ৮৪৩, অডিটে ৩৫, তথ্যে ২২, ট্যাক্সে ১৯, কাস্টমসে ১৪ ও সমবায়ে ১৯ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

    

পরীক্ষা শেষে বিজিবি এলাকার ভেতর থেকে পরীক্ষার্থীরা লাইন ধরে নির্বিঘ্নে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাদের দেখা মাত্র অধিকাংশ অভিভাবককের অভিন্ন প্রশ্ন ‘বাবা, প্রশ্ন কেমন হয়েছে। কতগুলো নির্ভুল দিতে পেরেছো। নিশ্চিত না হলে দেওয়ার দরকার নেই বলেছিলাম, আন্দাজে দাওনি তো?’ অধিকাংশ পরীক্ষার্থীকে এ সময় বলতে শোনা যায়, ‘পরীক্ষা মোটামুটি ভালোই হয়েছে। বাসায় গিয়ে সব বলছি।’

    

রাজধানীর কলাবাগানের বাসিন্দা খন্দকার আবু তোহা বলেন জানান, তার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে অনার্স-মাস্টার্স করেছেন। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও তার স্বপ্ন বিসিএস অফিসার হওয়ার। তাই চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের জন্য রাত জেগে পড়াশোনা করেছেন। মেয়ে প্রিলিমিনারিতে টিকবে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই খন্দকার আবু তোহার। তবে প্রতিযোগিতার এ বাজারে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন কি না তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।

    

অবশ্য তার মেয়ে বাবাকে আশ্বস্ত করে জানান, পরীক্ষা ভালো হয়েছে।

সালমা খাতুন নামে আরেক অভিভাবক জানান, তার ছেলের অনার্স সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিসিএস প্রিলিমিনারি দিচ্ছেন তিনি, প্রস্তুতিও ভালো। তবে বিসিএসে কৌশলপূর্ণ প্রশ্ন ও নেগেটিভ মার্কিংয়ের কারণে ছেলের পরীক্ষা কেমন হয় তা নিয়ে ভাবছেন তিনি।

    

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ চাকরিপ্রত্যাশী জানান, প্রশ্নপত্র ভালো হয়েছে। হাতেগোনা কয়েকজন গণিত ও ইংরেজি বিভাগের প্রশ্ন অপেক্ষাকৃত কিছুটা কঠিন হয়েছে বলে জানান। যারা বেশি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তারা বলেছেন, কিছু প্রশ্ন নিয়ে সন্দেহ থাকলেও অনুমান করে দাগিয়েছেন। আর যারা কম দিয়েছেন তারা জানান, বেশি উত্তর দিয়ে ভুল করার চেয়ে নিশ্চিত হয়ে কম উত্তর দেওয়াই শ্রেয় বলে মনে করেছেন।

Check Also

সিলেটে পানি কমছে, তবে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ

সিলেট নগর ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যার পানি অনেকটাই কমেছে। তবে এখন রাস্তাঘাটে জমে থাকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.