নাটোরে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় পিতা ও পুত্র গ্রেফতার

নাটোরের লালপুরে সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ইলিয়াস হাসান ইমন (১৫) ও ফাইজুল ইসলাম (৪০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে সাত বছর বয়সী শিশু বাবলী প্রতিবেশী ইমনের বাড়ীতে যায়। পরে বাড়িতে কেউ না থাকায় ইমন বাবলীকে ধর্ষণ করে। পরে বাবলী কান্নাকাটি করতে থাকলে ইমন তার গলা টিপে ধরে। এসময় বাবলী কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়লে ইমন ধারালো হাসুয়া দিয়ে বাবলীর ঘাড়ে আঘাত করে। এসময় মৃত্যু হয় বাবলীর। পরে ইমন বাবলীর মরদেহ বস্তাবন্দী করে তাকে টয়লেটের ট্যাংকের ভেতর রাখে।

বাবলী নিখোঁজের পর তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের পিতা বাবু হোসেন। পরে বিষয়টি ইমন তার বাবা ফাইজুলকে জানালে বস্তাবন্দী লাশ স্থানীয় একটি ধান ক্ষেতে ফেলে আসে তারা। পরে ঘটনার চারদিন পর শনিবার সকাল সাতটায় ধানক্ষেত থেকে বাবলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত ইমন ও তার বাবা ফাইজুলকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

 

নারী কণ্ঠে একাধিকবার ডাক, বাগানে তুলে নিয়ে গৃহবধূকে

ভোলার মনপুরা উপজেলায় নারী কণ্ঠে একাধিকবার ডাক দিয়ে ঘরের দরজা খুলে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাগানে নিয়ে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে মনপুরা থানায় মামলা করেন। এর আগে রোববার রাত ১২টায় উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া গ্রামে ওই গৃহবধূর বসতঘরের পাশের বাগানে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. শিপন ওরফে আলাউদ্দিনকে (৩৫) আটক করে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর চার আসামিকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

আসামিরা হলো— মো. শিপন উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাইয়ুম হাওলাদারের ছেলে, মো. বেল্লাল মেকার, মো. হেলাল, মো. ইউসুফ দালাল ও মো. সেলিম মেকার। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া গ্রামে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে নির্যাতিত ওই গৃহবধূ উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত ১১টার দিকে নারী কণ্ঠে ওই গৃহবধূর নাম ধরে একাধিকবার ডাক দেয়। পরে ঘরের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মো. শিপন ওরফে আলাউদ্দিন, মো. বেল্লাল মেকার, মো. হেলাল, মো. ইউসুফ দালাল, মো. সেলিম মেকার ওই গৃহবধূর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে ফেলে যায়। পরে রাত ১টায় স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সোমবার বিকালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা জেলা হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়।

তবে ঘটনার দিন ওই গৃহবধূর স্বামী সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ায় বাড়িতে ছিলেন না। এ ঘটনা শুনে সোমবার স্বামী বাড়িতে ফিরলে ওই গৃহবধূ রাতে বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পরে মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. শিপন ওরফে আলাউদ্দিনকে আটক করে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার আসামি পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার ওসি সাঈদ আহমেদ জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামিকে আটক করা হয়েছে। অপর চার আসামিকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Check Also

কলেজ অধ্যক্ষকে নেতার চড় মারার মুহূর্ত ধরা পড়ল ক্যামেরায়

কলেজ অধ্যক্ষকে চড় মারছিলেন এক নেতা। একবার নয়, একাধিকবার। আর সেই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.