‘অজানা প্রাণী’র হামলায় একজনের মৃত্যুর পর গাইবান্ধার গ্রামে চরম ভয় আর আতংক

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নে এক অজানা প্রাণীর আক্রমণে একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। প্রাণীটি কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় লোকজনের ওপর হামলা করলেও স্থানীয়রা কেউ প্রাণীটিকে ঠিক মতো দেখতে পাননি। ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে ভয় আর আতংক। তারা কেউ অচেনা এই প্রাণীকে, তাদের ভাষায়, ‘পাগলা শিয়াল’, কেউ ‘হায়েনা’ কিংবা ‘নেকড়ে’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান নয়ন বিবিসিকে বলেছেন, যারা আহত হয়েছে তাদের জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রাণীটি কেমন তা কেউ দেখেনি। তবে স্থানীয়দের কথা শুনে এবং প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে মনে হচ্ছে এটি পাগলা শিয়াল হতে পারে।” তবে তিনি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কাউকে আর আক্রমণের খবর তারা পাননি।

হামলায় মারা গেছে ১ জন

স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ফেরদৌস সরকার গত ১৮ই অক্টোবর মারা গেছেন। তিনি প্রায় ২০ দিন আগে হঠাৎ করে ওই প্রাণীটির আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন মাঠে ঘাস কাটার সময়। তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে প্রাণীটি পালিয়ে যায়।

এরপর বেশ কিছুদিন নানা জায়গায় হুটহাট প্রাণীটির আক্রমণের শিকার হয়েছে অন্তত ১২ জন। ফেরদৌস সরকারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফরিদা বেগম বিবিসি বাংলাকে জানান, “২৯শে সেপ্টেম্বর দুপুরে গরুর বাছুরের জন্য ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন ভাই। সেখানে ধানক্ষেত আর বাঁশঝাড় ছিলো কাছে। হঠাৎ করেই এসে তাকে কামড়ে দিলো। আরেকজন একটু দুরে ছিলো তিনি এগিয়ে এসেছিলেন কিন্তু প্রাণীটিকে চিনতে পারেননি।”

আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিলো তাকে। পরে জলাতঙ্ক টিকাও দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মারা যান তিনি। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলছেন, ওই একই দিন আরও কয়েকটি জায়গায় প্রাণীটির হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

যা বলছেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আলতাব হোসেন বলছেন, ইতোমধ্যেই তারা মাঠে একটি টিম পাঠিয়েছেন যাতে করে কোন প্রাণীকে হামলা করলে সেটিকে টিকা দেয়া যায়।

“কেউ ট্রেস করতে পারছে না। আবার দেখতে কেমন তাও বলতে পারছে না। সবাই অনেকটা আন্দাজে বর্ণনা দিচ্ছে। তাই ঠিক জানিনা এটি কি শিয়াল নাকি অন্য কিছু। দেখলে অবশ্যই চেনা যাবে। কোনভাবেই অচেনা বা অজানা কিছুর সুযোগ নেই,” বলছিলেন তিনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভয় আর আতঙ্কে সার্বক্ষণিক লাঠি বহন ছাড়াও সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতেই ভয় পাচ্ছেন তারা।

তালুক কেওয়াবাড়ি এলাকার সাইদুর রহমানের স্ত্রী নাজমা বেগম বলছেন, তার প্রতিবেশী এক আত্মীয়ের ১২-বছর বয়সী বাচ্চার ওপর হামলা করেছিলো প্রাণীটি। তিনি বলেন, “প্রাণীটা হুট করে বের হয়। এখনো ধরা যায়নি। তাই সবসময় লাঠি সাথে রাখি। সন্ধ্যার পর ঘরে থাকার চেষ্টা করছি।”

তিনি বলেন, এলাকার মানুষ দল বেঁধে চলাফেরা করছে এবং পাহারা দিচ্ছে। প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আলতাব হোসেন বলেন, ওই এলাকায় অনেক সময় চর এলাকা থেকে খাদ্যের জন্য শিয়াল বা এ ধরণের প্রাণী আসে। আবার কোন প্রাণী রোগে আক্রান্ত হলে বা মানসিক অসুস্থ হলেও বিহেভিয়ার প্যাটার্ন চেঞ্জ হতে পারে।

“তবে কেউ পরিষ্কার দেখলে বা সুস্পষ্ট বিবরণ পেলে হয়তো বোঝা যাবে। তার আগে কোন মানুষ আহত হলে সিভিল সার্জন অফিস টিকা দেবে আর প্রাণী আহত হলে আমাদের কর্মীরা টিকা দেবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

Check Also

সিলেটে পানি কমছে, তবে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ

সিলেট নগর ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যার পানি অনেকটাই কমেছে। তবে এখন রাস্তাঘাটে জমে থাকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.