সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ

সাম্প্রদায়িক হামলা ও হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মিলিত সনাতন পরিষদের ব্যানারে ৪০টি সংগঠন সমাবেশে অংশ নেয়।

সমাবেশ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলায় একটি মন্দিরেও আগুন দেওয়া হয়নি বা ধ্বংস করা হয়নি। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও ঘটেনি। মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কারণে পদত্যাগ দাবি করেন সমাবেশে যোগদানকারীরা। এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান তাঁরা।

 

সমাবেশে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা আগেও হয়েছে, তার একটিরও বিচার হয়নি। এবারের হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’ হামলায় জড়িত না থাকা ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জে কে পাল বলেন, ‘অষ্টমীর দিন হামলার পর থেকে আমরা একটি দিনের জন্যও প্রতিবাদ বন্ধ করিনি। দেখি, আপনারা কতদিন চুপ করে থাকতে পারেন। আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’

 

বাংলাদেশ মাইনোরিটি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ অশোক তরু বলেন, ‘৫০০ বছরের মধ্যে দুর্গাপূজায় হিন্দুরা এমন দুর্যোগের মুখোমুখি হয়নি। স্বাধীনতার পর হিন্দুদের ওপর একটি হামলারও বিচার হয়নি। তাই এবার এমন ঘটনা দেখতে হলো হিন্দুদের।’

সাম্প্রদায়িক হামলাকে বাংলাদেশের লজ্জা বলে উল্লেখ করেন ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী নিপীড়নের শিকার সিরাজগঞ্জের পূর্ণিমা রানী শীল। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কি সত্যি স্বাধীন আছেন? প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকা সাম্প্রদায়িক লোকেরা সরে গেলে দেশের প্রতিটি নাগরিক মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে।’

নির্যাতনের শিকার প্রতিটি পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে, জাতীয় হিন্দু ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মানিক সরকার, ভক্ত সংঘের সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল, জাগো হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিতাই দেবনাথ প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন আইনজীবী সুমন কমার রায়।

সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় মশাল মিছিল বের করা হয়। সেটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাম্প্রদায়িক হামলা ও সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদ এবং অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন গঠনের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভমিছিল করে বাংলাদেশ রবিদাস ফোরাম (বিআরএফ)।

Check Also

বন্যায় না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় কারও মৃত্যু হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বন্যায় না খেয়ে কিংবা বিনা চিকিৎসায় কারও মৃত্যু হয়নি, এটাই বড় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.