Breaking News

মা’মা’র শ্যা’লি’কা’কে বি’য়ে ক”র’তে না পে’রে জী’বন দি’লেন ভা’গ্নে

বরগুনার তালতলীতে মা’মা’র শ্যা’লি’কা’কে বি’য়ে ক’রতে না পেরে আ’ত্ম’হ’ত্যা ক’রেছেন ভা’গ্নে। গত রবিবার (৩১ অক্টোবর) ছোটবগী ইউনিয়নের পশ্চিম গাবতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,

গত ২৬ অক্টোবর রা’তে মা’মি’র বো’ন’কে বি’য়ে ক’রতে বাঁ’ধা দেওয়ার ঘটনার জে’র ধ’রে’ নি’হত মাহ’ফুজ তার আপ’ন মা’মা ফজলু প্যা’দা’কে কু’পি’য়ে আ’হ’ত করে।

 

এরপর আ’ত্ম’গো’প’নে থাকার জন্য গত ৪-৫ দিন আগে তার বা’বার মা’মা’তো ভাই উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের পশ্চিম গাবতলী এলাকার বাদশা হাওলাদারের বাড়িতে যায়।

পরে ল’জ্জা ও মা’মা’কে কো’পা’নো’র অনুশোচনায় রে’ইন’ট্রি গা’ছের স’ঙ্গে গ’লা’য় ফাঁ’স দি’য়ে আ’ত্ম’হ’ত্যা ক’রে’ন মাহফুজ।

সোমবার সকালে এ ঘ’ট’নার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তালতলী থা’না’র ভা’রপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে আ’ত্ম’হ’ত্যা’র খবর পেয়ে পুলি’শ ঘটনাস্থলে গিয়ে গা’ছে’র স’ঙ্গে ঝু’ল’ন্ত’ অব’স্থা থেকে ম’র’দে’হ উদ্ধার করে থা’না’য় নিয়ে আসেন।

পরে ম’র’দে’হ ময়নাতদন্তের জন্য লা’শ ম’র্গে প্রে’রণ করা হয়েছে ও একটি অ’প’মৃ’ত্যু মা’ম’লা দা’য়ের করা হয়েছে।

সমাজটাকে অসু’ন্দর করে তু’লছি না তো

যদি কষ্টগুলো প্রকাশের কোনো আশ্রয় খুঁজে না পাই, তবে উদ্বিগ্ন হই। বুঝতে পারি, এ সমাজের মানুষ একে অন্যকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে শেখেনি। তাই পাশে বন্ধু থাকলেও মনের কষ্টগুলো জমিয়ে রাখি। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যারা লড়তে জানে না, তাদের চেয়ে অসহায় আর কে হতে পারে। তবে অস্তিত্ব লড়াইয়ে টিকে থাকলেও দেখা যায় বিপন্ন জীবনের খণ্ডিত চিত্র। আকাশের দিকে তাকিয়ে বিচারের প্রত্যাশায় ক্রন্দন করলে হয়তো ঈশ্বরও শুনতে পান না। সেজন্যই সংখ্যালঘুরা নিগৃহীত থেকে যায়, নিষ্পেষিত হতে হয় বারবার। কালের বিবর্তনে সেটাই দেখে আসছি।

আমরা খেলার মাঠে পরমানন্দে খেলতে যাই, শিক্ষা ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা নয়। যদি বলি, আমি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দিয়েছি, তোমরা আমাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করলে মেধাবী ছাত্র হিসেবে তারিফ করবে। চিকিৎসক হিসেবে যদি রোগীকে বাঁচিয়ে তুলি, আমার শুভকামনায় তোমরা উতলে উঠবে। ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলে অকপটে তোমার হাতটাও আমাকে স্পন্দিত করবে! কিন্তু বিপত্তি তখনই, যখন পরম মমতায় ‘পরম প্রতিভূ’কে ডাকতে চাই, হৃদমাঝারে ঈশ্বরের স্পন্দনটুকু অনুভব করতে চাই!

 

মুখে মানবতার জয়গান শোনালেও একসময় জাত-পাতের বালাইয়ে তা বিনষ্ট হয়ে যায়। নতুনভাবেও সম্প্রীতির কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অন্য দেশে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড হলে আমরা দুঃখ প্রকাশে কার্পণ্য করি না। অথচ নিজ দেশের ভেতর কারও ক্রন্দনের আর্তনাদ আমাদের ভাবায় না! আমরা দিন দিন এতই স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছি যে নিজেদের নিরাপদ কিংবা সুরক্ষিত রাখতে পারলেই সার্থক বাঁচা মনে হয়। অথচ আমাদের চিরাচরিত সমাজব্যবস্থা এমন ছিল না। অতীতে ফিরে তাকালে দেখতে পাই, সব ধর্মের রক্তস্রোতের বিনিময়েই দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্নেহময়ী দেশটাকে পরম মমতায় আগলে রেখে যাঁরা বাঙালি জাতিকে মহিমান্বিত করে তুলেছিলেন, সেদিন হয়তো বাঙালি জাতি যুদ্ধক্ষেত্রে নৈরাশ্যবাদের কথা ভুলে থাকলেও সাম্প্রদায়িকতার উগ্র চেহারাটা যে তাদের ঝুলিতে ভর করেনি, তা নিশ্চিত করেই বলা যেতে পারে। তখন ছিল না কোনো ভেদাভেদ, কোনো হানাহানি। ছিল সাম্য, সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্ববোধ। একজন হামলার শিকার হলে সমাজের অন্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করত। এখন তেমনটা চোখে পড়ে না। ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে মানবিকতা। এ কারণে আমাদের সমাজে সামাজিক মেলবন্ধনের যে পটভূমি রচিত হয়েছিল, ধীরে ধীরে তা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই সত্যের ধারক খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফ্র্যান্সিস ফুকুয়ামা ‘ট্রাস্ট’ নামক বইয়ে লিখেছেন, ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূলকথা—ট্রাস্ট বা আস্থা’।

 

সমাজে মানুষ আস্থার সংকটে ভুগছে। যে কারণে মানুষে মানুষে বিভেদ বাড়ছে। মানুষের অগ্রগতি এবং সমগ্র মানবসভ্যতার অগ্রগতি এক নয়। সভ্যতার গায়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও মানবসভ্যতার উন্নয়নে ছোঁয়া লাগেনি। মানবতাকে সভ্যতার শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করলে মূল্যবোধ, বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভালোবাসা, মহত্ত্ববোধ মানুষের মধ্যে আরও সভ্য হয়ে ধরা দেওয়ার কথা। কালের নিয়মে উৎকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্টতর হওয়ার কথা। কিন্তু এর কোনোটাই হয়নি। কি হবে সভ্য সমাজকে দোষ দিয়ে? বর্বরতা সমাজের সৃষ্টি নয়, নিজেরা প্রতিনিয়ত মনের মধ্যে পোষণ করে রাখি। এমন সভ্য সমাজ দিয়ে কী হবে, যদি মানুষকে পরম মমতায় আগলে না রাখতে পারি। অন্যের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করার মধ্যে কী আনন্দ লুকিয়ে থাকে, যেখানে আগুনের লেলিহান শিখা উন্মত্ত হাসি জাগানোর খোরাক জোগায়? আমরা এমন সভ্য সমাজের অংশীদার হতে চাই না। দেশের নিষ্পেষিত লোকের চাহনি যদি আমাদের বিবেককে দংশিত না করে, ‘নির্দয়’ শব্দটি বারবার তাড়া করে। তাই বলি, দিন দিন আমরা সভ্য সমাজটাকে অসুন্দর করে তুলছি না তো?

বিভাজন, কথাটা শুনলেই আঁতকে উঠি। সামাজিক বিভাজনে আমরা নীরব সমর্থন দিয়ে যাই বলে আচরণে কেউ কেউ সহিংস হয়ে ওঠে। তাতেই চলে অন্য কারও কণ্ঠরোধের উত্তম পন্থা। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যখন বুঝতে পারবে, সমাজে একশ্রেণি মানুষের নীরবতা অন্যের ক্ষতির কারণ, তখন তাদের প্রতি ক্ষমার দৃঢ়তা আসবে কী করে? আজ আমাদের মানবিকতা বৈকল্যে পরিণত হয়েছে। পাশের বন্ধুটি শঙ্কিত থাকলেও আমাদের বুকে চিড় ধরে না। সদা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি বলেই কী এমন সত্তা?

উন্নয়ন! গ্রামগঞ্জে ইট–সুরকির দালান, কাঠের আবাসন? আগুনের লেলিহান শিখায় যদি সবই দগ্ধ হয়ে যায়, কী হবে উন্নয়ন দিয়ে। তারপরও ভাবি, একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে আসবে। কিন্তু যে দিন চলে গেল সে দিন কি আর ফিরে আসবে? হিসাব মেলানো ভার, মেলে না কোনো সদুত্তর। পীরগঞ্জের জেলেপল্লি প্রত্যক্ষ করেছে, আগুনের লেলিহান শিখায় কীভাবে দগ্ধ হয়ে যায় খেটে খাওয়া মানুষের ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

ষড়যন্ত্রের ধোঁয়া নাকি ইতিহাসকে পাল্টে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি করা সমাজে ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বলি, তোমরা ইতিহাস কেন বদলে দেবে। তোমরা তো নতুন করেই ইতিহাস গড়তে জান। তবে সে ইতিহাস যে স্বাধীনতার ইতিহাস নয়, সে ইতিহাস বাংলা রক্ষার ইতিহাসও নয়। সে ইতিহাস মনে রক্তক্ষরণের ইতিহাস, মনের ক্ষতবিক্ষতের ইতিহাস। আমাদের প্রজন্ম ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধ না দেখলেও ২০২১ সালে রক্তে রঞ্জিত শারদ দেখেছে। দেখেছে, কত অবলীলায় মানুষের অনভূতিকে ভোঁতা করে দেওয়া যায়। এক অজুহাতে সারা দেশকে আতঙ্কে ভরিয়ে দেওয়া যায়। সে দেশটি যে আমার প্রিয় মাতৃকা, প্রিয় স্বদেশ। কবি শামসুর রাহমানের ভাষায় বলি,
লুণ্ঠিত মন্দির আর অগ্নিদগ্ধ বাস্তুভিটা থেকে, একটি বিবাগী স্বর সুধাংশুকে ছুঁলো।
“আখেরে কি তুমি চলে যাবে?”বেলা শেষে, সুধাংশু ভস্মের মাঝে খুঁজে বেড়ায়—
দলিল, ভাঙা চুড়ি, সিঁদুরের কৌটা, স্মৃতির বিক্ষিপ্ত পুঁতিমালা
… … … …এ পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনো কোথাও পরাজিত সৈনিকের মতো সুধাংশু যাবে না।

মাঝে মাঝে ভাবি, এ জন্যই হয়তো পাশের বাড়ির ছোট্ট খোকাটি স্বাধীনতার তাৎপর্য বোঝে না। সে পাঠ্যবইয়ে পড়েছে ১৯৭১ সালে কত অবলীলায় ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়েও রংপুরের পীরগঞ্জে আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হতে শুনেছে। তাতে যেটুকু বুঝে, তা বাস্তব জ্ঞানে অর্জিত স্বাধীনতা থেকে ভিন্নতর। তার অবুঝ মনকে বোঝানোর কোনো ভাষা খুঁজে পাই না। তাহলে পীরগঞ্জের সহজ-সরল জেলেপল্লির মানুষেরা কীভাবে উত্তর খুঁজে পাবে জানা নেই। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তাদের জীবনযাত্রাকে সীমাবদ্ধতার মাঝে আরও সীমাবদ্ধ করে দিল।
তারপরও আমরা আশায় বুক বাঁধি। আমরা আমাদের ছোট্ট স্বপ্নকে রাঙিয়ে পথ চলতে শিখব। দেশের সন্তানেরা দেশকে মনের মতো করে গড়ে নেবে। সে আশায় পথ চেয়ে রইলাম।

 

 

Check Also

সিলেটে রাতভর বৃষ্টি, বেড়েছে নদ-নদীর পানি

সিলেটে গতকাল মঙ্গলবার রাতভর ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তবে আজ বুধবার সকালের দিকে আকাশে উঁকি দিয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.