Breaking News

মেয়রের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে কক্সবাজার শহরে বি’ক্ষোভ

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুনাফ সিকদারকে গু’লি করে হ’ত্যা চেষ্টার ঘটনায় কক্সবাজার পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে প্রধান আ’সামী করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মা’মলা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে রবিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহর জুড়ে অবরোধ-বিক্ষোভ করেছে মেয়র অনুসারীরা।

জানা যায়, গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় মার্কেটের সামনে আড্ডারত মুনাফ সিকদারকে গু’লি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে একটি হ’ত্যা’চেষ্টা  মামলা দায়ের করেন গু’লি’বিদ্ধ মুনাফ সিকদারের বড় ভাই মো. শাহজাহান সিকদার।

 

এ ঘটনা জানাজানি হবার পর, কক্সবাজার শহর জুড়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রচেষ্টা করে মুজিব অনুসারীরা। বিশেষ করে কক্সবাজার পৌরসভার কর্মচারী, বিতর্কিত কাউন্সিলর, সুইপাররা মাঠে নেমে সড়কের মাথায় মাথায় চলাচল প্রতিরোধ করে। যান চলাচল প্রতিহত করতে ব্যবহার করা হয় পৌরসভার ময়লা পরিবহণে ব্যবহার করা পিকআপ, মিনিট্রাক, খনন কাজে ব্যবহার করা স্কেবেটরসহ সব ধরণের যানবাহন। এসব যানবাহন শহরের প্রধান প্রধান সড়কের মাথায় আড়াআড়ি করে রেখে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়। শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের সড়কগুলো এবং পৌরসভার অফিসের আশপাশের সড়কগুলো আটকে দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মেয়রের পক্ষে প্রতিরোধ সভায় বক্তব্য দিতে দেখা গেছে বিতর্কিত ও জে’ল ফেরত কয়েকজন কাউন্সিলর, মানবপাচার মা’ম’লার আসামী, চিহ্নিত টোকাই, চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি, ভূমিদস্যুসহ সুবিধাভোগী মহল। সভায় তাদের বলতে শোনা যায়, হত্যা প্রচেষ্টা মা’মলা প্রত্যা’হার না হওয়া পর্যন্ত এ অবরোধ-বিক্ষোভ চলমান থাকবে। বন্ধ থাকবে পৌরসভার সেবা কার্যক্রম ও দোকানপাট।

 

কক্সবাজার জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল জরুরি বিজ্ঞপ্তি বলে তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেন, ”কক্সবাজার পৌর মেয়র, ব্যবসায়ীদের বিপদে-আপদে যিনি এগিয়ে আসেন, জননন্দিত জননেতা জনাব মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কক্সবাজার শহরের সকল দোকানপাট পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার জন্য সকল ব্যবসায়ী ভাইদের অনুরোধ রহিল।”

এ ঘোষণার দেখার পর কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলের সিনিয়র নেতা ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝিকে পূঁজি করে জামায়াত-বিএনপি সব সময় সুযোগ নেয়, এটা তারই প্রমাণ। দোকান মালিক সমিতির নামে মুকুলরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সবসময় সন্তর্পণে চলে সেটাই প্রতীয়মান হলো।

তবে, এসব ঘটনার সাথে তার কোন ধরণের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, আমি কাউকে প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করতে বলিনি। কিন্তু ভালোবেসে হয়তো আমার নেতা-কর্মীরা মাঠে নামতে পারে। এটা তাদের অধিকার, ভালোবাসা। আমার স্পষ্ট ঘোষণা হলো, আমাকে মি’থ্যা ভাবে ফাঁ’সানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে মেয়র মুজিবের পক্ষে করা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচী ৩ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা যায়। এ বিষয়ে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯ টায় জেলা আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতাদের আশ্বাসে বিক্ষোভ কর্মসূচী প্রত্যাহার হয়েছে।

উজ্জ্বল বলেন, মুজিবুর রহমানের নামে হয়রানিমূলক মামলা করার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সন্ধ্যা থেকে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ শুরু করে। এতে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শহরে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে আলাপ হয়েছে। পরে জেলা আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচী প্রত্যাহার করেছেন।

 

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় মার্কেটের সামনে আড্ডারত মুনাফ সিকদারকে গু’লি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মুনাফ সিকদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত মুনাফ সিকদার (৩২) শহরের পেশকারপাড়া এলাকার শাহাব উদ্দিন শিকদারের ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং শহর যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী। এসময় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ছনখোলা এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. তারেক (২২) নামের এক পথচারীও গু’লি’বিদ্ধ হন।

জনকেগু’লি’বিদ্ধ মোনাফ শিকদার একটি ভি’ডিও বার্তায়  দাবি করেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তাকে গু’লি করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা গু’লি করার সময় আমাকে বলছে, মুজিব চেয়ারম্যানের সঙ্গে লাগছো? এ বলে পেছন থেকে গুলি করে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় হ’ত্যাচে’ষ্টার অভিযোগে মেয়র মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামী করে ৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৫ থেকে ৬  অজ্ঞাতনামা মি আসাকরে মামলাটি দায়ের করেন গু’লিবি’দ্ধ মুনাফ সিকদারের বড় ভাইশাহজা মো. হান সিকদার। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস।

 

 

Check Also

ষড়যন্ত্র না হলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন কেন বন্ধ হলো: হাইকোর্ট

ষড়যন্ত্র না থাকলে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন কেন বন্ধ হলো বলে প্রশ্ন রেখেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published.