খেলোয়াড়দের পুরোপুরি দোষ দেওয়া যায় না: মা’রিয়া নূর

মডেল-অভিনেত্রী মারিয়া নূর। টিভি পর্দায় ক্রিকেট কিংবা ফুটবল নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে প্রশংসিত হয়েছেন। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে ‘স্ট্রেট ড্রাইভ’ নামে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপে চলাকালীন প্রতিটি খেলার বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়। যদিও এবারের বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। দলের ভরাডুবি নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরব। এ বিষয়ে মারিয়া নূরের পর্যালোচনা জানার চেষ্টা করেছেন আমিনুল ইসলাম শান্ত

প্রশ্ন: টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপর্যয়- এর কারণ কী বলে মনে করেন?

 

মারিয়া নূর: আমরা গত দুই বছর ধরেই এ ধরনের বাধার মুখোমুখি হচ্ছি। আমরা টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে যে ভালো না, সেটা আগে থেকেই মেনে নেওয়া উচিত ছিল। কারণ আমরা কখনোই টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে ভালো খেলিনি। যদি টেস্ট ক্রিকেটের কথা বলি, সেখানেও একই অবস্থা। এর চেয়ে বড় বিষয় হলো—একটি ক্রিকেট দল ক্রিকেট বোর্ডের মতোই ভালো। ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে আত্মবিশ্বাস চোখে পড়ছে না।

সবকিছু মিলিয়ে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে আমরা খুব একটা এগিয়ে আছি তা বলা যাবে না। সুতরাং এই বিপর্যয় গ্রহণ করাটা যেমন জরুরি, তেমনি আমাদের উচিত ছিল ওয়ার্ল্ড কাপের জন্য আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া। ওয়ার্ল্ড কাপে যাওয়ার পর দেখতে পাচ্ছি, সেখানে নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে- এটা থেকেই বোঝা যায় আমাদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে হয়নি। এখানে খেলোয়াড়দের পুরোপুরি দোষ দেওয়া যায় না।

প্রশ্ন: টি-টুয়েন্টির সবচেয়ে বড় আসর চলছে। বাংলাদেশের বিপর্যয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াসহ নানা মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

মারিয়া নূর: দর্শকের সমালোচনা গঠনমূলক হবে না এটাই স্বাভাবিক। শচীন টেন্ডুলকারের মতো একজন বরেণ্য খেলোয়াড়ও কিন্তু দর্শক সমালোচনার উর্ধ্বে ছিলেন না। তাকেও নানারকম সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, মেসিকেও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। যখন কোনো খোলোয়াড় অফ ফর্মে থাকেন তখন সবাইকেই সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু উগ্র সমালোচনা আমার কাছে বেশি খারাপ লাগে। আমরা যদি দেশকে সত্যি ভালোবেসে থাকি, ক্রিকেটকে যদি দেশের নাম্বার ওয়ান খেলা বানিয়ে থাকি, তবে এই ক্রিকেটাররাই তা বানিয়েছেন। খেলোয়াড়দের প্রতি যদি সত্যি ভালোবাসা থেকে থাকে তবে গঠনমূলক সমালোচনা করা উচিত। উগ্র সমালোচনা সমর্থন করি না।

প্রশ্ন: তামিম ইকবাল আগেই নিজেকে এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অনেকে বিষয়টিকে ‘অভিমান’ বলছেন। আপনি কী বলবেন?

মারিয়া নূর: আমরা মুশফিকুর রহিমের বিষয়টিও ওভাবেই দেখি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অনুরোধে তিনি খেলতে গিয়েছেন বলে জানি। ভিডিও ফুটেজে দেখেছি, মুশফিকুর রহিম সবার সঙ্গে কথা বলছেন। নিজের মতোই আছেন। কিছু জিনিস কিন্তু দর্শকের চোখ এড়ায় না। কমিউনিকেশন, কো-অপারেশন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচের সম্পর্ক— সব কিছু মিলিয়েই বোঝা যায় টিমের ভেতরে যেন একটা টেনশন কাজ করছে। তামিম ইকবাল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, এ নিয়ে আমার মন্তব্য করার কিছু নেই। তিনি কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি বলব- এটা একটা সাহসী সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন: আপনাকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হলে আপনি দলকে কীভাবে সাজাবেন?

মারিয়া নূর: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিন্তু খুবই ভালো অধিনায়ক। তিনি দলকে খারাপভাবে সাজিয়েছেন সেটা আমি কোনোভাবেই বলব না। বিপিএল-এ তার অসাধারণ অধিনায়কত্ব দেখেই কিন্তু তাকে টি-টুয়েন্টিতে ক্যাপ্টেন্সি দেওয়া হয়েছে। বিপিএল-এ তার অধিনায়কত্বের প্রশংসা করেছি। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত নিতে কোচ কিন্তু সহযোগিতা করতে পারেন। আর আমি দল সাজানোর বিষয়ে যাবই না। কারণ একজন দর্শক হিসেবে আমি খেলা দেখি। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে আমি শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। আমার মনে হয়, মাহমুদউল্লাহ অধিনায়ক হিসেবে খারাপ নন।

প্রশ্ন: নতুন কোনো ওয়েব সিরিজ কিংবা ফিল্মের কাজ হাতে নিয়েছেন কিনা?

মারিয়া নূর: আমি আগেই বলেছি, ওয়ার্ল্ড কাপের পর বিরতিতে যাব। নিজেকে সময় দেওয়ার কথা ভাবছি। তারপরও আজকে ওটিটির জন্য দুটি কাজের বিষয়ে কল পেয়েছি। চিত্রনাট্য হাতে পেলে সিদ্ধান্ত নেব।

Check Also

এবার ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সিও নিলামে

রেকর্ডটার এখনো দুই মাসও হয়নি। ক্রীড়াঙ্গনের স্মারক বিক্রির সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ ডলারে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.