Breaking News

স’ন্তানকে বাঁ’চাতে টানা 11 ঘণ্টা মাটি খুঁড়ে গেলেন মা হাতি।একটি প্রা’ণী হয়েও স’ন্তানের প্রতি এরকম ভালোবাসা দেখে হ’ত’ভম্ব নেটদুনিয়া

হাতি গোত্রের দুটি স্তন্যপায়ী প্রজাতির সাধারণ নাম। একটি একান্তভাবে আফ্রিকাবাসী, আর অন্যটি বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে আছে। এক সময় বাংলাদেশের সিলেট ও মধুপুরে বন্য হাতি থাকলেও এখন কেবল আছে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে। ভারত থেকে মাঝে-মধ্যে বন্য হাতিরা ময়মনসিংহের বালিজপুর ও দুর্গাপুরে এবং সিলেটের পাথারিয়া এলাকায় ঢুকে পড়ে।

হাতিরা স্থলচর প্রাণীর মধ্যে বৃহত্তম এবং নির্বিশেষ তৃণভোজী। এগুলি ২.৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। নাক ও ওপরের ঠোঁট লম্বা হয়ে শুঁড়ে রূপান্তরিত; এটি খাদ্য সংগ্রহের জন্য একটি অনন্য শক্তিশালী ও সংবেদী অঙ্গ। কান বিশাল, ত্রিভুজাকার। চামড়া পুরু, ঝুলঝুল ও হালকা লোমশ। পা থামের মতো। পুরুষ হাতির ওপরের দুটি কর্তন দাঁত শুঁড়ের দুপাশে লম্বা হয়ে বেরিয়ে গজদন্ত গঠন করে। চোখ ছোট, কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ। লেজ খাটো, আগায় একগুচ্ছ শক্ত চুল আছে।

হাতি ৫-২০টি একত্রে বসবাস ও চলাচল করে। দলে থাকে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতি, কয়েকটি স্ত্রী হাতি ও কিছু শাবক। হাতিরা পানিতে নামে, কাদায় গড়াগড়ি যায়। পুরুষ হাতিরা ১৫ বছর বয়সে এবং স্ত্রী হাতিরা আরও আগে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়। গর্ভধারণকাল ২০-২২ মাস। মাত্র একটি বাচ্চা প্রসব করে। যমজ দৈবাৎ জন্মে। নবজাতক প্রায় ০.৯ মিটার লম্বা, ওজন হয় প্রায় ৯০ কেজি, দ্রুত বাড়ে। হাতির আয়ুষ্কাল ৬০-৭০ বছর। ঘাস, কলাগাছ, বাঁশ, গাছের পাতা ও ছাল, ফুল ও ফল এদের প্রধান খাদ্য। বাংলাদেশে বন্য ও পোষা হাতির সংখ্যা যথাক্রমে আনুমানিক ২০০ ও ১০০। হিন্দুদের সৌভাগ্য দেবতা গণেশ গজমুন্ডধারী এবং এজন্য হাতি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিকট পবিত্র প্রাণী।

গজদন্ত দীর্ঘদিন ধরে আইভরি শিল্পে ব্যবহূত হয়ে আসছে। খ্রিস্টীয় সময়ের অনেক আগে থেকেই শিল্পকলায় এর ব্যবহার শুরু বলে মনে করা হয় এবং ভারতে এর শুরু সিন্ধু অববাহিকায় সভ্যতা গড়ে ওঠার সময় (খ্রিস্টপূর্ব ২৩০০-১৭৫০) থেকে। বাংলাদেশে আইভরি শিল্পকর্মে গজদন্তের ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে সিলেটে (১১ শতাব্দী)। সেখানে দক্ষ কারিগরেরা শাসকের সিংহাসনের পায়া, আসবাবপত্র এবং মন্দির সজ্জার কাজে গজদন্ত ব্যবহার করত। [এস.এম হুমায়ুন কবির]

 

Check Also

চট্টগ্রামে পাহাড়ধস

এবার বর্ষার শুরুতে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। কিন্তু এখনো পাহাড় কেটে পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.