দায়ীদের জবাবদিহির অধীনে আনা হোক

মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। যার কারণে এ দেশের সরকারগুলো সব সময় এ ধরনের উন্নয়নকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তা ছাড়া দৃশ্যমান উন্নয়নে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি এখানে অনেকটা প্রতিষ্ঠিত। ফলে অবকাঠামো উন্নয়ন কতটা মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনছে, সেটি তখন বিবেচনাহীন হয়ে পড়ে।

যার কারণে সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মেয়াদ ও ব্যয় বেড়ে যাওয়া নিয়েও এখানে কোনো দুশ্চিন্তা কাজ করে না। তারপরও সেই অবকাঠামো কতটা টেকসই হচ্ছে বা হবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে দেখি আমরা। টাঙ্গাইল পৌরসভায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর দেবে যাওয়ার ঘটনা এ বিষয়গুলো আবারও আমাদের সামনে হাজির করেছে।

টাঙ্গাইল শহরের বেড়ডোমা এলাকায় সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে। শেষ হওয়ার কথা ছিল গত মে মাসে। সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অথচ এখন পর্যন্ত সেতুটির কাজই হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ।

এর মধ্যে এ সেতু মাঝখান বরাবর দেবে গেছে। এখন নির্মাণাধীন সেতুটি ভেঙে নতুন করে আবার করতে হবে। তার মানে বিপুল টাকা গচ্চা গেল। প্রকল্পের ধীরগতির কারণে সেখানকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ ছিল না, এখন সেটি আরও দীর্ঘায়িত হলো।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পৌরসভার প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুটি দেবে গেছে। যথাসময়ে কাজটি শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও পৌরসভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোনো কথাই শোনেননি।

এর আগে এখানে যে বেইলি সেতু ছিল, সেটিও দুবার ভেঙে যাওয়ায় কয়েক বছর দুর্ভোগ তৈরি করেছিল। এখন উন্নয়নের জন্য যে প্রকল্প, সেটিই যদি এভাবে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগের কারণ হয়ে থাকে, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছুই হয় না। যদিও এমন পরিস্থিতিতে আমরা দিন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জানালেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে সেতুটি দেবে যাওয়ার কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। তঁার এমন বক্তব্য আমাদের অবাকই করেছে। তিনি শুধু সেতু দেবে যাওয়ার কারণ জানার চেষ্টার কথাই বললেন।

কেন সেতুর কাজটি যথাযথ সময়ে শেষ হলো না, ঠিকাদারদের গাফিলতির বিষয়ে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বই দিলেন না। ঠিকাদারসহ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অধীনে আনার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

Check Also

রুহি তখনো জানে না বাবা নেই

গোলাম মোস্তফা নিরু (২৬)। মাইক্রোবাসের রুজি দিয়েই চলতো সংসার। গাড়ির চাকার সঙ্গে থেমে গেছে তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.