বৃষ্টিতেই ডুবে বিদ্যালয় আঙিনা

পানি আর কাদা মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বর্ষাকালে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার আল-আজহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৬ জুন দুপুরে একপশলা বৃষ্টির পর
ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার আল-আজহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৬ জুন দুপুরে একপশলা বৃষ্টির পরছবি: প্রথম আলো
বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার আল-আজহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো আঙিনা। ফলে পানি আর কাদা মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বর্ষাকালে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

১৬ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স লাগোয়া কাকচর মহল্লায় অবস্থিত ওই আল-আজহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের বেশির ভাগের সন্তানেরা এ বিদ্যালয়ে পড়ে। এ ছাড়া চারিআনিপাড়া মহল্লার একাংশসহ, কাকচর, নলুয়াপাড়া ও নান্দাইল বাজার মহল্লার বাসিন্দাদের সন্তানেরা এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এটি নান্দাইল পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়।

১৬ জুন প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টিপাতের পর বেলা তিনটার দিকে এ প্রতিবেদক বিদ্যালয়ে যান। উপজেলা কমপ্লেক্সের রাস্তা পর্যন্ত হেঁটে সহজেই যাওয়া যায়। কিন্তু এরপর থেকে ভোগান্তি শুরু হয়। উপজেলা কমপ্লেক্স দিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশের সরু রাস্তাটি ভাঙাচোরা ও জলমগ্ন অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী হতাশ কণ্ঠে জানায়, মাঠে জলকাদা থাকায় বর্ষাকালে খেলাধুলা করা যায় না।

নান্দাইল সদরের এক কলেজছাত্রী বলেন, ‘আমি প্রাথমিকে পাঁচ বছর ওই বিদ্যালয়ে পড়েছি। তখনো বৃষ্টির সময় জলকাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। এবার আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এখনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষ সমস্যাটি সমাধান করতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। অথবা সমস্যাটি তারা এড়িয়ে গেছে।’

প্রধান শিক্ষক বাবলী রানী দাস প্রথম আলোর কাছে বর্ষাকালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলেন, ‘মাঠ থেকে বৃষ্টির পানি শুকানোর আগ পর্যন্ত আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। ২০২০ সালে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছিল। তারপরও দুর্ভোগ দূর হয়নি।’

বাবলী দাস আরও বলেন, মহল্লার পানিনিষ্কাশনের জন্য নির্মিত নালাটি উঁচু হওয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকা পানি সহজে নিকাশ হয় না। বরং বেশি মাত্রায় বৃষ্টিপাত হলে নালার পানি উপচে বিদ্যালয়ের মাঠে চলে আসে।

নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, বিদ্যালয়টির দুরবস্থা দেখেছেন। এ বিষয়ে জেলা-উপজেলায় আয়োজিত সংশ্লিষ্ট সভায় তুলে ধরা ছাড়া কিছু করার নেই।

ইউএনও মোহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন, বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধানে আগামী অর্থবছরে পৌরসভাকে উদ্যোগ নিতে বলা হবে।

Check Also

নতুন পাঠ্যক্রম কীভাবে চলবে ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন?

নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে শিক্ষাক্রম। কমানো হচ্ছে বই ও পরীক্ষার বোঝা। গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.