অপরাধ প্রমাণ হলে বায়েজিদের শাস্তি কি হবে?

পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে নেয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার বায়েজিদ ওরফে তালহা পেশাদার টিকটকার নন। তার মোবাইল ইউটিউব অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে মাত্র ৬টি টিকটক ভিডিও। এই ৬টি ভিডিও আবার আপলোড হয়েছে এক বছরে। চলতি বছরে তার ইউটিউব অ্যাকাউন্টে ২টি টিকটক ভিডিও আপলোড হয়েছে। নাট-বল্টু খুলে নেয়ার ঘটনায় বায়েজিদকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন অনেকটা মজা করে একটি অসঙ্গতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে সিআইডি বলছে, এটি তার অপরাধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়ে। তার নামে যে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫ঘ ধারাই মামলা হয়েছে ওই মামলায় তার অপরাধ প্রমাণ হলে সর্বনিম্ন ১৪ বছর এবং সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। বায়েজিদকে ইতিমধ্যে মামলার তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে নিয়ে গেছে। তিনি কীভাবে ওই কাজটি করেছেন তা সরজমিন দেখার জন্য তদন্তকারীরা গতকাল সকালে নিয়ে যায়।

তিনি যখন তার ভিডিওটি করছিলেন তখন আশপাশে বেশি লোকজন ছিল না। দূরে লোকজন ছিল। ঘটনাস্থলে সে প্রাইভেটকার নিয়ে গিয়েছিল। ওই প্রাইভেটকারের নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। সিআইডির কর্মকর্তারা বায়েজিদের বাসায় গিয়ে বলেন যে, তাকে টিকটক ভিডিওটির ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদের কথা শুনে বায়েজিদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি খুব মুক্ত মনে সিআইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিআইডির সদর দপ্তরে এসেছেন। তাকে যখন গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয় তখন থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং মামলার এজাহারে উল্লিখিত আসামি কাওসারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

কাওসার ছাড়াও এ মামলার অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। বায়েজিদের মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সিআইডির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত রোববার স্বপ্নের পদ্মা সেতু জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৩৪ সেকেন্ডের একটি টিকটক ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বায়েজিদ তালহা সেতুর রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে দুটি বল্টুর নাট খুলছেন। ভিডিও ধারণকারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই লুজ দ্যাহি, লুজ নাট, আমি একটা ভিডিও করতেছি, দ্যাহো।’ নাট হাতে নিয়ে বায়েজিদ ওরফে তালহা বলেন, ‘এই হলো পদ্মা সেতু আমাদের……পদ্মা সেতু। দেখো আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু। এই নাট খুইলা অহন আমার হাতে।’ ভিডিওটি দ্রুত দেশে এবং বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিনই বিকালে শান্তিনগর এলাকা থেকে বায়েজিদকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

তার নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫ঘ ধারায় হওয়া পদ্মা দক্ষিণ থানার একটি মামলা হয়েছে। পুুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্তের মুখ্য সমন্বয়ক সিআইডি’র সদর দপ্তরের সাইবার পুলিশের এসপি মো. রেজাউল মাসুদ মানবজমিনকে জানান, বায়েজিদ যে অপরাধ করেছে তার অপরাধ আদালতে প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১৪ বছর জেল হতে পারে। আসামির কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তাকে আমরা ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে।

Check Also

দুর্ঘটনার পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি

দুর্ঘটনাস্থলের পাশে ক্রেন ও গার্ডার পড়ে আছে। প্রকল্প ঘিরে কোনোরকম নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। রাজধানীর ব্যস্ততম বিমানবন্দর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.