সাভারে ৬ দফা দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আশুলিয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারের হত্যাকারী আশরাফুল ইসলাম জিতু (১৭)কে গ্রেপ্তারসহ ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে এই কর্মসূচি পালন করেন হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে, আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছাড়াও নিহত শিক্ষকের পরিবার এবং এলাকাবাসীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মামলার প্রধান আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, মামলার প্রধান আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার, প্রধান আসামি ওই ছাত্রের পলাতক পরিবারের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা, নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানীয় ও বাইরের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ভেদাভেদ দূর করতে আইন প্রণয়ন এবং কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ।

এদিকে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত রক্তাক্ত স্ট্যাম্প পুলিশ এখনো আলামত হিসেবে জব্দ করেনি। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেনি বলে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে চিন্তিত নিহত শিক্ষকের পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার মিম বলেন, জাতিগড়ার কারিগরকে যে হত্যা করতে পারে তার এ সমাজে থাকার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার পরপরই ওই ছাত্রের বাবা এসে তাকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পুরো পরিবার পলাতক আমরা তাদের সবার শাস্তি চাই। স্কুলটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ের প্রভাষক সফিকুল ইসলাম বলেন, জিতু এমনিতেই বখাটে স্বভাবের। সে ছাত্র হিসেবেও বেশি ভালো না।

এছাড়া নিয়মিত স্কুলে আসতো না। ছাত্র হিসেবে খারাপ হলেও সে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতো। স্কুলের নিয়ম কানুনও মানতো না জিতু। এসব নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ অনেকবার বিচারে বসেছিল। উৎপল কুমারসহ তারা অনেকভাবে জিতুকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি জিতুর অভিভাবককেও বলেছেন কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। আজ সেই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে জিতুর হাতেই। এছাড়া এ ঘটনার পর থেকে স্কুল বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই একত্রিত হয়েছে। জিতুকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে। বিদ্যালয়টির অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের স্কুল ও কলেজে ৫৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকা রয়েছেন। উৎপল স্যার এখানে ২০১৩ সাল থেকে চাকরি করেন। স্যার আমাদের এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন। ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। তবে ঘটনাটি শুনে দ্রুত স্কুলে এসে এ দুইদিন যাবৎ উৎপল স্যারের সঙ্গে হাসপাতালেই ছিলাম। স্যারের অপারেশনে ৩০ ব্যাগের মতো রক্ত লেগেছে তবুও স্যারকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জিতুকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। অন্যদিকে উৎপল কুমার সরকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন তার বড় ভাই আসীম কুমার সরকার। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মো. এমদাদুল হক বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে জিতুকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আমরা অভিযানে আছি। খুব দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে।

Check Also

রুহি তখনো জানে না বাবা নেই

গোলাম মোস্তফা নিরু (২৬)। মাইক্রোবাসের রুজি দিয়েই চলতো সংসার। গাড়ির চাকার সঙ্গে থেমে গেছে তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.