দুর্গাপুরে ৩২ মণের ‘সুসং রাজা’র দাম হাঁকছেন ১৮ লাখ টাকা

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডিগর ইউনিয়নের কেরণখলা গ্রামের মো. মোস্তফা কামাল নামের এক ব্যক্তি সাড়ে ৩ বছর যাবৎ লালন-পালন করছেন বিশাল আকৃতির হলেস্টিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড়। ষাঁড়টির নাম রেখেছেন ‘সুসং রাজা’। সাড়ে ৩ বছরে শরীরের ওজন হয়েছে প্রায় ৩৩ মণ। গতকাল সকালে খামারি মোস্তফার বাড়িতে গেলে (সুসং রাজা) ষাঁড়টির বেড়ে ওঠার গল্প শোনান তিনি। আসন্ন ঈদুল আজহায় সাড়ে ৩ বছর বয়সী ‘সুসং রাজা’ নামের বিশালাকৃতির ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিক মোস্তফা কামাল। তিনি গরুটির দাম চেয়েছেন ১৮ লাখ টাকা। সরজমিন গিয়ে মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘সুসং রাজা’ নামের এই গরুর বিশেষ যত্ন নেয়া হয়। গরুটি শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় মালিকের বেশি সময় দিতে হয় না। স্ত্রী সুলেমা খাতুন ও বড় মেয়ে মাফিয়া (১৪) প্রায় সময়ই যত্ন নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া রোগ জীবাণুর হাত থেকে বাঁচাতে প্রায় দিনই প্রাণি সম্পদ ও ভেটেরিনারি অফিসের সিদ্দিক নামের এক পশু চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তিনি কসাইদের কাছে এ গরুটিকে বিক্রি করবেন না। আসন্ন কোরবানীর ঈদে বিক্রি করবেন। মোটাতাজা করার জন্য খাওয়ানো হয়নি কোনো ওষুধ। পুরোপুরি দেশীয় পদ্ধতিতে বড় করা হয়েছে বলে দাবি করেন গরুর মালিক মো. মোস্তফা কামাল। কেরণখলা গ্রামের মোবারক নামের এক প্রতিবেশী জানান, ‘আমাদের এলাকায় এতবড় ষাঁড় গরু আগে কখনো দেখিনি। নদীতে গোসল করার জন্য নিয়ে গেলে অনেকে আগ্রহ করে দেখতে আসেন।’ মোস্তফা কামাল বলেন, আমার ভাতিজা আব্দুল গফুরের কাছ থেকে ১৬ মাসের বাছুর গরু কিনেছিলাম। তখন এটির বাজার মূল্য ছিল ৯০ হাজার টাকা। দুই বছর ২ মাস লালন-পালন করেছি। এখন ষাঁড় গরুটি বড় হয়েছে। আর এ জন্যই ষাঁড় গরুটির নাম রেখেছিলাম ‘সুসং রাজা’। গরুটির দাম চেয়েছি ১৮ লাখ। তবে আলোচনা সাপেক্ষে কিছুটা কম বেশি হলে ‘সুসং রাজা’ নামের বিশালাকৃতির ষাঁড় গরুটিকে বিক্রি করে দিবো।’ বিশাল দেহের গরু হওয়ায় কোথায় নিয়ে যাওয়া কষ্টকর। সম্প্রতি পশু মেলায় গরুটি নিয়ে যেতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই মেলায় সেরা ষাঁড় নির্বাচিত হওয়ায় পুরস্কার হিসেবে ৩ হাজার টাকার চেক পেয়েছিলাম। আর ১ হাজার ভাড়া বাড়া বাবদ দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উপজেলা সেরা ষাঁড় গরুটির বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শিমু দাস বলেন, ‘গরুটি ব্যাপারে জানার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গরুটির মালিক যেন প্রকৃত দাম পান সে জন্য প্রাণিসম্পদ অফিসের ফেসবুক পেজেও ছবি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।’

Check Also

ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে

জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। ডলারের রিজার্ভে চাপ পড়েছে। এ জন্য অর্থ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.