সামরিক জোটে বাংলাদেশের সক্রিয়তা চায় সৌদি আরব

নিজেদের নেতৃত্বাধীন ৪১ সদস্য-রাষ্ট্রের সন্ত্রাস বিরোধী সম্মিলিত সামরিক জোটে বাংলাদেশের সক্রিয়তা চায় সৌদি আরব। ২০১৫ সালে জোটটি গঠিত হলেও এখনো তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন (আইএমসিটিসি) নামের ওই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাংলাদেশ। কিন্তু ৬ বছরেও রিয়াদস্থ সচিবালয়ে কোনো প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়নি ঢাকা। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, জোটটিকে এগিয়ে নিতে এখন বেশ তৎপর সৌদি সরকার। এজন্য জোটের রিয়াদস্থ সচিবালয়ের সব শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সৌদি সামরিক জোটের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বিন সায়েদ আল মোঘদি সম্প্রতি ঢাকা ঘুরে গেছেন। সফরকালে পররাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের সক্রিয়তার অনুরোধ জানানো এবং আইএমসিটিসি সচিবালয়ে ৬ বছর ধরে শন্য পড়ে থাকা বাংলাদেশ কোটার ৪টি পদে প্রতিনিধি নিয়োগের অনুরোধ করা হয়। সার্ক এবং বিমসটেক সচিবালয়ের আদলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কোটা সুনির্দিষ্ট করে সাজানো আইএমসিটিসি সচিবালয়ে বাংলাদেশের জন্য চারটি পদ সংরক্ষিত।

যাতে দু’জন সামরিক কর্মকর্তা, একজন পেশাদার কূটনীতিক এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠানোর কথা।

উল্লেখ্য, হুথি বিদ্রোহীদের দমনে ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেনে অপারেশন শুরু করে সৌদি আরব। এখনো দেশটিতে শান্তি ফিরেনি। জাতিসংঘ বলছে, ইয়েমেনে সৌদির নেতৃত্বে হামলা ও এর পরিণতিতে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। ইয়েমেনে বিমান হামলাকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে রিপোর্ট করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। ওই যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাসের মাথায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের লক্ষ্যে আইএমসিটিসি গঠন করে সৌদি আরব। এর সচিবালয় রিয়াদ, যার কারণে এটা ‘সন্ত্রাস বিরোধী রিয়াদ সেন্টার’- হিসেবেও পরিচিত। অন্যদিকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ গত মার্চে ঢাকা সফরকালেও বাংলাদেশের সক্রিয়তা কামনা করেন। সংক্ষিপ্ত সেই সফরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের অগ্রাধিকারে ছিল বিষয়টি। সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ওই জোটের প্রধান। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন এবং ফ্রান্স জোটটির নিরঙ্কুশ সমর্থক। লেবাননসহ জোটের ২৭টি সদস্য দেশের প্রতিনিধি আইএমসিটিসি’র রিয়াদের সচিবালয়ে কাজ করছেন।
বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের জন্য সংরক্ষিত প্রায় অর্ধ শতাধিক পদ এখানো শূন্য রয়েছে। সেগুনবাগিচা বলছে, ঢাকা সফরকারী আইএমসিটিসি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে এক ভোজ- বৈঠকে মিলিত হন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার সেই বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। আইএমসিটিসি’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য মতে, ঢাকা সফরকালে মেজর জেনারেল আল-মোঘদি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদসহ সামরিক এবং বেসামরিক বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সন্ত্রাসবাদ দমনের সবশেষ পরিস্থিতি এবং আইএমসিটিসি’র সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। ঢাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় মেজর জেনারেল আল-মোঘদি জোটের সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও সাফল্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদে পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল পাঠানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ দমনে নিজেদের অভিজ্ঞতা সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বিনিময়ের মাধ্যমে জোটের কার্যক্রম ও নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোটের লক্ষ্যগুলোর অন্যতম হচ্ছে- সন্ত্রাসী সংগঠনের মতাদর্শের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি ইসলামের প্রকৃত ও সহনশীল মতাদর্শের প্রচার, সন্ত্রাসের অর্থায়ন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্দশা লাঘবে সদস্য দেশগুলোকে সমন্বিতভাবে সামরিক ও ত্রাণ সহায়তা দেয়া।

Check Also

শ্রীলঙ্কায় অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের অস্বীকৃতি

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে শ্রীলঙ্কার আশা ছিল বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন। কিন্তু শুক্রবার বিশ্বব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.