খাদ্যশস্য নিয়ে ওডেসা বন্দর ছাড়তে প্রস্তুত ১৬টি জাহাজ

খাদ্যশস্য নিয়ে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ওডেসা বন্দর ছাড়ার জন্য প্রস্তুত ১৬ টি জাহাজ। যে কোনো সময় এই জাহাজগুলো বন্দর ত্যাগ করতে পারে বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির অফিস জানিয়েছে। ২৫ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে। এমন সময় এই খবর এলো যখন ইউক্রেনে রুশ অধিকৃত দোনেত্স্কের একটি কারাগারে রকেট হামলায় ৫০ জনের বেশি যুদ্ধবন্দি নিহত হয়েছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেন এই হামলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে। ইউক্রেন জাতিসংঘ এবং রেড ক্রিসেন্টকে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২২ জুলাই জাতিসংঘ এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া এবং ইউক্রেন খাদ্যশস্য রপ্তানি নিয়ে একটা চুক্তি করে। সেই চুক্তির আওতায় খাদ্যশস্য রপ্তানির কাজ শুরু হয়। যদিও দুই বার ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এজন্য ইউক্রেন রাশিয়াকে দায়ী করেছে। তবে রাশিয়া বলেছে, তারা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এরপরও ইউক্রেন জাহাজে খাদ্যশস্য তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। গতকাল পর্যন্ত ১৬ টি জাহাজ খাদ্যশস্য দিয়ে পূর্ণ করা হয়। গত শুক্রবার জেলেনস্কি বন্দরে খাদ্যশস্য রপ্তানির কার্যক্রমও পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের শুরু থেকেই প্রথম জাহাজটিতে খাদ্যশস্য তোলা হয়। ইউক্রেন আশা প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত কোনও জাহাজ বন্দর ছাড়েনি। কারণ পানিতে হামলা এবং মাইন বিস্ফোরণের আতঙ্ক আছে।

ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন দোনেত্স্ক শহরের একটি কারাগারে ৫০ জনের বেশি যুদ্ধবন্দি নিহত হয়েছেন। মারিউপোলের আজভস্টাল ইস্পাত কারখানায় যেসব ইউক্রেনীয় সেনাসদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকে কিছু সেনাসদস্যকে ওলেনিভকায় নেওয়া হয়েছিল বলে এর আগে জানা গিয়েছিল। ইউক্রেন এসব যুদ্ধবন্দি নিহত হওয়ার দাবি করেছে। দেশটি জাতিসংঘ ও রেড ক্রিসেন্টকে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে কিয়েভ দাবি করেছে, খেরসন পুনর্দখলে পুরোদমে লড়াই করছে ইউক্রেন বাহিনী। সেখানে তাদের হামলায় বহু রুশ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইউক্রেন বাহিনী।

শুক্রবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন দোনেত্স্ক শহরের একটি কারাগারে আটক ৪০ জন ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দি ইউক্রেনেরই গোলাবর্ষণে নিহত হয়েছে। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০-এ দাঁড়ায়। তবে ইউক্রেন ৫০ জনের বেশি দাবি করেছে। হামলার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরকে দায়ী করছে। তবে কারাগারে আসলে কী ঘটেছিল, তা গতকাল পর্যন্ত স্পষ্ট করা যায়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এ ঘটনাকে রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্যাতনের চিহ্ন মুছে ফেলতেই ইউক্রেনের এসব বন্দিকে হত্যা করা হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী গতকাল শনিবার দাবি করেছে, তারা খেরসন অঞ্চলে লড়াইয়ে বহু রুশ সেনাকে হত্যা করেছে। একই সঙ্গে দুটি গোলাবারুদের গুদাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের দাবি, দিনিপ্রো নদীর ওপর দিয়ে খেরসন পর্যন্ত রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অধিকৃত ক্রিমিয়া থেকে রুশ বাহিনীকে আরো বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। —বিবিসি ও আলজাজিরা

Check Also

শ্রীলঙ্কায় অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের অস্বীকৃতি

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে শ্রীলঙ্কার আশা ছিল বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন। কিন্তু শুক্রবার বিশ্বব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.